সাওয়াব অর্জনের সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ

আল্লাহর রহমত, বরকত ও সাওয়াব অর্জনের সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি, বিশেষত মানুষের প্রতি কল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

যে কোনো জাগতিক প্রয়োজনে সাহায্য করা, সমাজের কিছু মানুষের মধ্যে পরস্পরে গোলমাল বা অশান্তি হলে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, সেবা করা, বিপদে পড়লে উদ্ধার করা, মাযলূম হলে সাহায্য করা, মৃত্যুবরণ করলে কাফন-দাফনে শরীক হওয়া ইত্যাদি সকল প্রকার মানব সেবামূলক কাজের জন্য অকল্পনীয় সাওয়াব ও মর্যাদার কথা অগণিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

অন্যান্য ইবাদত এবং সেবামূলক ইবাদতের মধ্যে তিনটি পার্থক্য বিদ্যমান:

(ক) তাহাজ্জুদ, যিকর ইত্যাদি ইবাদতের চেয়ে খিদমাতে খালকের সাওয়াব বহুগুণ বেশি,

(খ) অন্যান্য ইবাদতের সাওয়াব মূলত আখিরাতের জন্য আর খিদমাতে খালকের কারণে আল্লাহ আখিরাতের সাওয়াব ছাড়াও দুনিয়ায় বরকত দান করেন এবং

(গ) খিদমাতে খালক জাতীয় ইবাদতের ওসীলা দিয়ে দুআ করলে আল্লাহ বিপদাপদ কাটিয়ে দেন।

রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:

যতক্ষণ একজন মানুষ অন্য কোনো মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে ততক্ষণ আল্লাহ তার কল্যাণে রত থাকবেন। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নেক আমল কোনো মুসলিমের হৃদয়ে আনন্দ প্রবেশ করান, তার বিপদ, কষ্ট বা উৎকণ্ঠা দূর করা, তার ঋণ আদায় করে দেওয়া অথবা তার ক্ষুধা দূর করা।

আমার কোনো ভাইয়ের কাজে তার সাথে একটু হেঁটে যাওয়া আমার নিকট মসজিদে এক মাস ইতেকাফ করার চেয়েও বেশি প্রিয়। যে ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের সাথে যেয়ে তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে কিয়ামতের দিনে যেদিন সকলের পা পিছলে যাবে সেদিন আল্লাহ তার পা সুদৃঢ় রাখবেন।”[1]মুনযিরী, আত-তাগীব ৩/৩৪৬-৩৫১, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/১৯১, সহীল জামিয়িস সাগীব ১/৯৭।

… এ অর্থে অনেক হাদীস আমরা হাদীসের গ্রন্থসমূহে দেখতে পাই। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, “যদি কেউ কোনো অসুস্থ মানুষকে দেখতে যায় তবে ফিরে না আসা পর্যন্ত সে জান্নাতের মধ্যে বিচরণ করতে থাকে।”[2]মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৯৮৯।

অন্য হাদীসে তিনি বলেন, “যদি কেউ সকালে কোনো অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে যায় তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭০ হাজার ফিরিশতা তার জন্য দু‘আ করতে থাকে। আর যদি বিকালে যায় তবে সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ফিরিশতা তার জন্য দু‘আ করতে থাকে।”[3]তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৩০০। তিনি হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।

আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন বলেন: “তোমাদের মধ্যে আজ কে সিয়ামরত ছিলে? আবু বকর (রা) বলেন: আমি। তিনি প্রশ্ন করেন: তোমাদের মধ্যে কে আজ কোনো জানাযায় শরীক হয়েছ? আবু বকর (রা) বলেন: আমি। তিনি প্রশ্ন করেন: তোমাদের মধ্যে কে আজ দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করেছ? আবু বকর (রা) বলেন: আমি। তিনি আবার প্রশ্ন করেন: আজ তোমাদের কে অসুস্থ কোনো মানুষকে দেখতে গিয়েছ?

আবু বকর বলেন: আমি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: এ কর্মগুলো যদি কোনো মানুষের মধ্যে একত্রিত হয় তাহলে সে ব্যক্তি অবশই জান্নাতী হবেন।”[4]সহীহ মুসলিম ২/৭১৩, নং ১০২৮। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ কর্মগুলো করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

সহীহ মাসনূন ওযীফা

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ।

আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, ডোনেশন, ঈমানের ৬ষ্ঠ রুকন

ফুটনোটঃ

ফুটনোটঃ
1 মুনযিরী, আত-তাগীব ৩/৩৪৬-৩৫১, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/১৯১, সহীল জামিয়িস সাগীব ১/৯৭।
2 মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৯৮৯।
3 তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৩০০। তিনি হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।
4 সহীহ মুসলিম ২/৭১৩, নং ১০২৮।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *