আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট নূরানি কিন্ডারগার্ডেন

 

ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা

শিশু কিশোরদেরকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিবেশের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট মাদরাসাতুস সুন্নাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছে। এ বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পাঁচ বছর মেয়াদী। প্লে, নার্সারী, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী মোট পাঁচটি শ্রেণিতে এ বিভাগের পাঠ্যক্রম বিভক্ত। প্লে শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত চট্টগ্রাম নূরানী বোর্ডের পাঠ্যক্রম অনুসরণে পাঠদান করা হয়। এ পর্যায়ে জাতীয় কারিকুলামের মান সংরক্ষণ করে বাংলা, ইংরেজি, অংক, সমাজ, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা বিশুদ্ধ ঈমান, কুরআন তিলাওয়াত-লিখন, প্রয়োজনীয় সূরা মুখস্থ, হাদীস মুখস্থ, ইসলামী আদব, আখলাক, নৈতিক মূল্যবোধ ও মাসাইল শিক্ষা গ্রহণ করে।

প্রাথমিক বিভাগের কতিপয় বৈশিষ্ট্য

  • শিক্ষাবর্ষ জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর।
  • জাতীয় কারিকুলামের মানে ইংরেজি, বাংলা, অংক ও সাধারণ বিষয় পাঠদান।
  • বাংলা, ইংরেজি ও আরবী লেখায় সুন্দর হস্তাক্ষরের প্রশিক্ষণ।
  • বিশুদ্ধ উচ্চারণে তাজবীদ-সহ কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা।
  • কুরআন কারীমের প্রয়োজনীয় সূরাসমূহ মুখস্থ করানো।
  • কুরআনের সূরাগুলো না দেখে আরবীতে শ্রুতি লেখানো।
  • প্রয়োজনীয় হাদীস, দুআ ও যিকরসমূহ মুখস্থ করানো।
  • সালাতের দুআ, যিকর ও হাদীস না দেখে আরবীতে শ্রুতি লিখন শেখানো।
  • জামাআত, জুমআ, জানাযা ও ঈদের সালাতের ইমামতিসহ প্রয়োজনীয় দীনি কর্মের বাস্তব প্রশিক্ষণ।
  • প্রয়োজনীয় ইসলামী মাসাইল ও আহকাম শিক্ষা দান।
  • দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
  • চট্টগ্রাম নুরানী বোর্ডের পরিদর্শকগণের নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা হয়।
  • মেধাবী ও দরিদ্র্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
 
 

বেতন, ভর্তি ও অন্যান্য জ্ঞাতব্য

  • ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চালু থাকে।
  • ৪ থেকে ৫ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের প্লে শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সর্বোচ্চ বয়স ৬ বছর।
  • প্রাথমিক বিভাগের মাসিক বেতন:
  • প্লে-নার্সারী শ্রেণি: ৫০০, প্রথম-তৃতীয় শ্রেণি: ৬০০ টাকা।
  • ভর্তির সময় নতুন ছাত্র/ছাত্রীর প্রদেয়: প্লে থেকে তৃতীয় শ্রেণির জন্য ২,৫০০ টাকা।
  • ভর্তি ফরম ২০ টাকা
  • নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ পুরাতন ছাত্র/ছাত্রীদের প্রদেয়: ১,৫০০ টাকা।
  • ভর্তি ফরম ২০ টাকা
  • সেশন ফি ১,৫০০ টাকা
  • প্লে-নার্সারী পরীক্ষার ফি ১৫০ এবং প্রথম-তৃতীয় শ্রেণিতে ২০০ টাকা।
  • বেতন প্রতি ইংরেজি মাসের ১-৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

 

পরীক্ষা ও ছুটি

  • নুরানী প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষাবর্ষ তিনটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা এপ্রিল মাসে, দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা জুলাই মাসে এবং বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর মাসের শেষে অনুষ্ঠিত হয়।
  • প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার পর ১ সপ্তাহ ছুটি দেওয়া হয়।
  • ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১২/১৩ দিন ছুটি থাকে।
  • জাতীয় ছুটির দিনগুলোতে ছুটি থাকে।

 

প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় ছুটির দিন কমবেশি হতে পারে।

 

প্রাথমিক বিভাগের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রম:

প্লে-নার্সারী শ্রেণি (৬০০ নম্বর)

  • বাংলা
  • ইংরেজি
  • গণিত
  • কালিমা ও মাসাইল
  • তরীকায়ে তা’লীম: আরবী লিখা
  • হাদীস শরীফ

 

প্রথম শ্রেণি (৮০০ নম্বর)

  • বাংলা
  • গণিত
  • ইংরেজি
  • তরীকায়ে তা’লীম: আরবী লিখা
  • কালিমা ও মাসাইল
  • হাদীস শরীফ
  • আদইয়ায়ে সালাত
  • হিফযুল কুরআন ও তাজবীদ

 

দ্বিতীয় শ্রেণি (৯০০ নম্বর)

  • বাংলা
  • গণিত
  • ইংরেজি
  • পরিবেশ পরিচিতি
  • তরীকায়ে তা’লীম: আরবী লিখা
  • কালিমা ও মাসাইল
  • আদইয়ায়ে সালাত ও আদইয়ায়ে মাসনুনাহ
  • হাদীস শরীফ ও আসমাউল হুসনা
  • কুরআন মাজীদ ও তাজবীদ
 

তৃতীয় শ্রেণি (৯০০ নম্বর)

  • বাংলা
  • গণিত
  • ইংরেজি
  • পরিবেশ পরিচিতি
  • সমাজ ও বিজ্ঞান
  • আরবী
  • কালিমা ও মাসাইল
  • আদইয়ায়ে সালাত ও আদইয়ায়ে মাসনুনাহ
  • হাদীস শরীফ ও আসমাউল হুসনা
  • কুরআন মাজীদ ও তাজবীদ

 

ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যাঃ

নুরানী বিভাগঃ ৪৯২

তাহফীযুল কুরআন বিভাগ

 

বালক ও বালিকা হিফয বিভাগ

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ বোর্ড দ্বারা পরিচালিত, কুরআন কারীম হিফয করা মুসলিম জীবনের অন্যতম নেয়ামত, অনন্ত মর্যাদা ও সাওয়াবের উৎস। এ মর্যাদা ও সাওয়াব যেমন শিক্ষার্থীর তেমনি তার পিতামাতা ও স্বজনদের। অপরদিকে সকল ইসলামী জ্ঞানের উৎস কুরআন কারীম। কুরআন কারীমের পরিপূর্ণ হিফ্য ভিন্ন “ইসলামী শিক্ষা” কখনো পূর্ণতা পেতে পারে না।

আমাদের দেশে হিফযুল কুরআনের ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা হলো হাফিয শিক্ষার্থী হিফয শেষ করার পরে বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আর সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারে না। ফলে আমাদের সমাজে অগণিত “ইলমহীন হাফিয” বিরাজমান। এই অবস্থা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও ইসলামী শিক্ষাচিন্তার পরিপন্থী। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার আগেই হিফয সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেছে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণি উত্তীর্ণ ৭/৮ বছর বয়সের ছাত্র/ছাত্রীদেরকে হিফয বিভাগে ভর্তি করা হয়। ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে তারা হিফয সম্পন্ন করে। এরপরই তাদেরকে প্রাথমিক সমাপনীর জন্য প্রস্তুত করা হয়। হিফযের বছর বা তার পরের বছরেই তারা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এভাবে কমবেশী ১১/ ১২ বছর বয়সের মধ্যেই তারা প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।

আস-সুন্নাহ ট্রাস্টে বালক ও বালিকাদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থাপনায় ও পৃথক আবাসনে দুটি পৃথক হিফযুল কুরআন বিভাগ রয়েছে।


হিফয বিভাগের কতিপয় বৈশিষ্ট্য

  • ৭/৮ বছর বয়স থেকে হিফয শুরু
  • ৩ বৎসরের মধ্যে হিফয সম্পন্ন করা
  • তাজবীদ ভিত্তিক বিশুদ্ধ ও মার্জিত উচ্চারণ এবং তারতিলসহ হিফয।
  • হিফযের পাশাপাশি সীমিত পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, অংক শিক্ষা প্রদান।
  • আন্তর্জাতিক ক্বারীগণের অডিও ক্যাসেটের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
  • হিফয-এর সাথে সাথে কুরআন কারীমের অর্থ আলোচনার ব্যবস্থা।
  • পড়ালেখা, খাওয়া-দাওয়া ও আবাসনের জন্য সুন্দর পরিবেশ।
  • অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাফিয ও কারীগণের দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত।
 
 

ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যাদি

হিফয বিভাগ জানুয়ারী-ডিসেম্বর শিক্ষাবর্ষ অনুসরণ করে। তবে ভর্তির শর্ত পূরণ হলে বছরের যে কোনো সময়ে হিফয বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র/ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।

কায়দা বা নাযেরা পর্যায়ে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীর বয়স সীমা ৬-৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। হিফয পর্যায়ে ভর্তি ইচ্ছুকদের বয়স ৯ বছরের মধ্যে হতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আবেদন-পত্রের সাথে ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্ম নিবন্ধন সনদ, পূর্ব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র এবং অভিভাবকের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিয়ে ভর্তি হতে হবে।

আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এর অফিস থেকে অফেরতযোগ্য ১০০ টাকার বিনিময়ে আবেদন পত্র, একাডেমিক ক্যালেন্ডার, পরিচিতি পুস্তিকা সংগ্রহ করতে হবে।

পরীক্ষা ও ছুটি

হিফয বিভাগে বছরে তিনটি পরীক্ষা হয়। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা এপ্রিল মাসে, ২য় সাময়িক পরীক্ষা আগস্ট মাসে এবং বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসে।
হিফয বিভাগের ছাত্রছাত্রীগণ প্রতি মাসে এক দিন ছুটি পায়। এছাড়া দু’ ঈদে ১০/১১ দিন করে ছুটি এবং প্রতি পরীক্ষার পর ২ দিন ছুটি পায়।
প্রতি মাসিক ছুটির পূর্বে মাসিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক ছুটির পূর্বে ছাত্রদের মাসিক মূল্যায়ন প্রকাশ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সকল ছুটির ক্ষেত্রে ছুটির প্রথম দিন দুপুরের খাদ্য গ্রহণের পর ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্থান করবে। ছুটির শেষ দিন মাগরিবের পূর্বেই তারা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হবে।

হিফয বিভাগ পূর্ণ আবাসিক। উপরের ছুটি ছাড়া অন্য কোনো সময়ে তারা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারবে না। জাতীয় ছুটির দিনগুলোতে দিবসকালীন ক্লাস বন্ধ থাকে। তবে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করতে হয় এবং সারাদিনের অন্যান্য কার্যতালিকা অনুসরণ করতে হয়।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত ছুটি ছাড়া কোন ছাত্রকে ছুটি দেয়া হয় না। জরুরী পরিস্থিতিতে ছুটি মঞ্জুর করা বিভাগীয় প্রধানের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।

মুহতামিম
হাফেয মামুনুর রশিদ

ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যাঃ

হিফয বালক শাখাঃ১২৮

হিফয বালিকা শাখাঃ ২৭

কিতাব বিভাগের পরিচিতি

 

বালক ও বালিকা শাখা:
ইসলামী মূল্যবোধ ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তার এবং ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষজ্ঞ আলেম তৈরী আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের অন্যতম লক্ষ্য। আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিভাগ “জামিআতুস সুন্নাহ নামে পরিচিত। জামিয়াতুস সুন্নাহর সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প দাওরায় হাদীস বিভাগ অর্থাৎ কিতাব বিভাগ। বিশুদ্ধ ইসলামী আকীদা, আমল ও আখলাকের ভিত্তিতে যোগ্য আলেম গড়ে তোলার সুব্যবস্থা করা এই বিভাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার জন্য কওমী মাদ্রাসার মূল পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রমগুলো ঠিক রেখে, সাধারণ বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বালকদের জন্য ৯ বছর এবং বালিকাদের জন্য ৮ বছর মেয়াদী পাঠক্রম তৈরী করা হয়েছে। বর্তমানে বালক-বালিকা উভয় শাখায় জামাতে জালালাইন পর্যন্ত চালু আছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে (১৪৪০-১৪৪১ হি.) মিশকাত জামাত এবং পরবর্তী বছর দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত চালু হবে ইনশাআল্লাহ।

বালকদের ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য আরবী ভাষা, হাদীস, ফিকহ, তাফসীর ও অন্যান্য ইসলামী জ্ঞানে পারাদর্শী গবেষক আলিম ও যোগ্য শিক্ষক তৈরী করা। বালিকাদের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য আরবী ভাষায় দক্ষতাসহ ইসলামী জ্ঞানে অভিজ্ঞ, তাকওয়া, আখলাক, আদব ও সমাজ সচেতন মুসলিম মহিলা তৈরী করা। এ দিকে লক্ষ্য করেই পাঠ্যক্রম তৈরী করা হয়েছে। মূল নিয়মাবলী উভয় বিভাগের জন্য একই, তবে পাঠ্যক্রম কিছুটা ভিন্ন। পর্দা সংরক্ষণের স্বার্থে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসরুম ও আবাসনের ব্যবস্থা সর্ম্পূণ পৃথক করা হয়েছে।

এই বিভাগের দায়িত্বশীলগণ:

  • বিভাগীয় প্রধান: বিশিষ্ট আলিম শায়খ আবু জাফর হাফিযাহুল্লাহ।
    বিভাগ পরিচালনার ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক সার্বিক সহযোগিতা যারা করেন তাদের অন্যতম হলেন,
  • বিশিষ্ট আলিম ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর শায়খ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল-কুরাইশী।
  • বিশিষ্ট আলিম শায়খ আহমাদুল্লাহ। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, দায়ী ও গবেষক ।
  • প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন জনাব আব্দুর রহমান, সেক্রেটারী, আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট। ০১৭১৮-১৩৬৯৬২

ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী:

উক্ত বিভাগের বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। ক্রমান্বয়ে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নবীন ও প্রবীন সমন্বিত, সৃজনশীল মানসকিতা সম্পন্ন, প্রতিভাবান ও সুদক্ষ, শিক্ষির্থীদের প্রতি নিবেদিত প্রাণ একদল শিক্ষক-শিক্ষিকা সার্বক্ষণিক তাদের পাঠদান ও দেখাশোনা করে থাকেন। বালক ও বালিকা উভয় শাখায় দেখভাল করার জন্য একজন করে খাদেমের ব্যবস্থা আছে।

কিতাব বিভাগের কতিপয় বৈশিষ্ট্য:

  • তরজামাতুল কুরআন, তাফসীর, হাদীস, উসূলুল হাদীস, ফিকহ, উসূলুল ফিকহ, র্সফ, নাহউ, আকাঈদ, তারিখুল ইসলাম, ইলমুল আখলাক বিস্সুনান, বাংলা, ইংরেজী গণিতসহ অন্যান্য জীবন ঘনিষ্ট সকল বিষয়ে পাঠ দান।
  • সুুুস্বাস্থকর পরিবেশ, সুপরিকল্পিত পাঠ্যসূচী, কিঞ্চিত বিনোদন, আধুনিক ও উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত উন্নত খাদ্য পরিবেশন।
  • সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণ।
  • বিশুদ্ধ উচ্চারণে আরবী কথোপকথন প্রশিক্ষণ।
  • ইসলামী শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়।
  • সকল শাখায় অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বারা পাঠদান। আরবী শিক্ষকদের প্রায় সকলেই দাওরায়ে হাদীসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এক বা একাধিক বিষয়ে তাখাসসুস সম্পন্ন করেছেন। সাধারণ শিক্ষকদের সকলেই স্ব স্ব বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রীপ্রাপ্ত।
  • মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা।
  • বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা। আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য জেডিসি এবং দাখিল পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ।
  • প্রতিটি শ্রেণিতে আকীদার বিষয়ে পাঠদান।
  • প্রতিটি শ্রেণিতে বিষয়ভিত্তিক কুরআন ও হাদীস মুখস্ত করানো হয়।
  • ‘উসূলে ফিকহ’, ‘আদাব’, ‘নাহু’ ও অন্যান্য শাস্ত্রে দরসে নিযামী ও বর্হিবিশ্বের সিলেবাসের সমন্বয়।
  • শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা।

ভর্তি প্রক্রিয়া:

  • শাওয়াল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভর্তি কার্যক্রম চলে এবং তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পাঠদান শুরু হয়।
  • আবেদনকারীকে বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াতে সক্ষম এবং বাংলা, ইংরেজী, অংক ইত্যাদি সাধরণ বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণীর মানের হতে হয়।
  • ভর্তি পরীক্ষায় চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে আবেদন পত্রের সাথে জন্ম-সনদ, নাগরিক সনদ, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশংসাপত্র, নিজের বা অভিভাবকের ভোটার আই. ডি. কার্ডের কপি এবং দু’কপি সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হবে।

প্রস্তুতিমূলক শিক্ষাবর্ষ:

কিতাব বিভাগে ভর্তিচ্ছুক অনেকে পঞ্চম শ্রেণী উত্তীর্ণ হলেও কুরআন কারীম বিশুদ্ধ তেলাওয়াতে অক্ষম। আবার অনেকে হাফিযে কুরআন বা কুরআন ও আরবীতে যোগ্য হলেও বাংলা, ইংরেজী, অংক ইত্যাদি সাধারণ বিষয়ে দুর্বল। এদের জন্য বালক ও বালিকা বিভাগে পৃথক প্রস্তুতিমূলক বিশেষ শ্রেণির ব্যবস্থা রয়েছে। এক বছর নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাদেরকে কিতাব বিভাগ প্রথম বর্ষের জন্য প্রস্তুত করা হয়। বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

বেতন ও প্রাসঙ্গিক তথ্য:

  • কিতাব বিভাগের মাসিক খরচ মোট ৩০০০ টাকা।
  • নতুন শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অন্যান্য ফি ১৬০০ টাকা এবং পুরাতন শিক্ষার্থীদের সেশন ও অন্যান্য ফি ১১০০ টাকা।
  • সকল প্রকার ফি মাসের ১-৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়।
  • দরিদ্র ও মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা আছে।
  • এতিমদের জন্য থাকা-খাওয়াসহ লেখা-পড়ার যাবতীয় খরচ প্রতিষ্ঠান বহন করে থাকে।

শিক্ষা বর্ষ, পরীক্ষা ও ছুটি বিষয়ক তথ্য:

  • ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে জামিআতুস সুন্নাহ-এর শিক্ষা কার্যক্রমে আরবী চান্দ্র বর্ষ অনুসরণ করা হয়। শাওয়াল মাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় এবং শাবানে শেষ হয়। রামাদানে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু তারবিয়াতী কার্যক্রম থাকে।
  • শিক্ষাবর্ষ তিনটি পর্বে বিভক্ত করে সর্বমোট ৬ টি মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি মাসিক পরীক্ষা, দুইটি পার্বিক পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষা। পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য কমপক্ষে গড়ে ৪৫% নম্বর পেতে হবে।
  • ঈদুল আযহাতে ১০-১২ দিন, ২টি পার্বিক পরীক্ষার পর ৫-৭ দিন এবং প্রতিমাসে ১ দিন ছুটি। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত ছুটি ছাড়া কোন শিক্ষার্থীকে ছুটি দেয়া হয় না। জরুরী পরিস্থিতিতে ছুটি দেওয়া-না দেওয়া বিভাগীয় প্রধানের বিবেচনাধীন।

আবাসিক নীতিমালা:

কিতাব বিভাগের জন্য সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য আবাসিক থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় বিছানা-পত্র এবং পোশাকাদি শিক্ষার্থীরা নিয়ে আসবে।

ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যাঃ

কিতাব বালক শাখাঃ ২১১

কিতাব বালিকা শাখাঃ ১৩৫

উচ্চতর দাওয়াহ ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান বিভাগ

 

দাওয়াহ ও আন্তধর্মীয় সংলাপ

মানুষ নিজের বংশ, জাতি, গোষ্ঠী, বর্ণ, দেশ বা শিক্ষা নিয়ে যেমন গৌরব বোধ থেকে অহঙ্কার ও অন্যকে ঘৃণার পর্যায়ে চলে যায়, ঠিক তেমনি নিজের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে অন্য ধর্ম ও তার অনুসারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা হানাহানিতে লিপ্ত হয়। ইসলাম তার অনুসারীদের নিজের ধর্মের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও ভালবাসার পাশাপাশি অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ধর্ম পালনের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান, সকল জাগতিক অধিকার প্রদান, অন্যধর্মের অনুসারীদের সাথে আলোচনা বিতর্কে সর্বোচ্চ উত্তম বাক্য ও আচরণ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে এবং অন্য ধর্মের পূজনীয় বা ভক্তির পাত্রদের প্রতি অশোভন মন্তব করতে নিষেধ করেছে।((সূরা-৬ আন‘আম ১০৮; সূরা-১৬ নাহল ১২৫; সূরা-১৭ ইসরা ৫৩; ২৯ আনকাবুত ৪৬; ৪১ ফুসসিলাত ৩৪))

ইসলামের দাওয়াহ ও ধর্মীয়সংলাপ পরস্পর সম্পর্কিত। কুরআন যেমন মুমিনদের দিক নির্দেশনা দিয়েছে, তেমনি অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের সাথেও সংলাপ করেছে এবং মুমিনদের সংলাপ শিক্ষা দিয়েছে। সাহাবীগণের যুগ থেকেই মুসলিম গবেষকগণ বিশ্বধর্ম অধ্যয়ন ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেছেন। ইসলামের প্রথম কয়েক শত বছরে আলিমগণ জ্ঞানের এ শাখায় অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাদের গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করলে আমরা তথ্য উপস্থাপনায় বস্তুনিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা ও কুরআন নির্দেশিত শালীনতা দেখতে পাই।

তাতার আক্রমনে বিক্ষত মুসলিম দেশগুলোর ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় তুলনামুলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন তেমন গুরুত্ব পায় নি। বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে বিভিন্ন ধর্মের অধ্যয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম সমাজগুলোতে নাস্তিকতা, ধর্মহীনতা, ধর্মান্তর, বিশেষত খৃস্টান ধর্মপ্রচারকদের কর্মতৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত শালীনতা, প্রজ্ঞা ও যুক্তি নির্ভরতার ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর প্রথম প্রজন্মগুলোর গবেষকদের ধারায় দীনী দাওয়াতের পাশাপাশি তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞ দীন প্রচারক বা ‘দাঈ ইলাল্লাহ’ তৈরির জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট ‘দাওয়াহ ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান’ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে।

পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা পদ্ধতি

উচ্চতর দাওয়াহ বিভাগে এক বছর মেয়াদী তাখাস্সুস বা উচ্চতর ডিপ্লোমা প্রদান করা হয়।
দাওয়াহ বিভাগের পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে মাদরাসা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় উভয় ধারার শিক্ষার্থীদের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। দীনী দাওয়াতের জন্য মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতে পারদর্শিতা আবশ্যক। এজন্য এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে মাতৃভাষা, ইংরেজি, জাতীয় ইতিহাস ও বিশ্বের ইতিহাস অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরবীতে দুর্বলগণও যাতে এ বিভাগের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উপকৃত হতে পারেন সেজন্য আরবী বিষয় কম রেখে অধিকাংশ বিষয় বাংলায়, পাঠ, অধ্যয়ন ও গবেষণার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাঠদান ও অধ্যয়ন ব্যবস্থা ছাড়াও প্রতি পর্বে ন্যুনতম চারটি করে বিশেষজ্ঞ আলোচনা ব্যবস্থা রাখ হয়েছে। ইতিহাস, সভ্যতা, বিশ্বায়ন, মুসলিম বিশ্ব, সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও তুলনামূলক ধর্ম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকগণ আলোচনা ও আলোচনা-পত্র প্রদান করেন।

ভর্তি বিষয়ক তথ্যাবলি

শাওয়াল মাসের ১০-১২ তারিখের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ১৩/১৪ তারিখের মধ্যে পাঠদান ও অধ্যয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস বা ফাযিল পরীক্ষায় উত্তীণ ছাত্রদের এ বিভাগে ভর্তি করা হয়। এছাড়া কলেজ, বিশ্ববিদ্যায়ে, বিশেষত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দাওয়াহ বিভাগের শর্তাবলি পূরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য খ-কালীন অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।

আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা দিবে এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি ফরমের সাথে জন্ম-সনদ, নাগরিক সনদ, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশংসাপত্র, নিজের বা অভিভাবকের ভোটার আই. ডি. কার্ডের কপি এবং দু’ কপি সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হবে।

এ বিভাগে শিক্ষার জন্য কোনো বেতন নেওয়া হয় না। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও শিক্ষা সবই আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বহন করে। জামিআর পরীক্ষায় বিশেষ মেধার স্বাক্ষর রাখলে তাকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। খ-কালীন শিক্ষার্থীদের খাওয়া খরচ বহন করতে হয়। ভর্তিচ্ছুক সকলকেই ভর্তির সময় নিম্নের প্রদেয়গুলো প্রদান করতে হয়: ভর্তি ফি ১৫০০ টাকা, ফরম ও প্রস্পেক্টাস ১০০ টাকা, মোট ১৬০০ টাকা।

শিক্ষাবর্ষ ও ছুটি

দাওয়াহ বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রমে ইসলামী চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়। শিক্ষাবর্ষ শাওয়ালে শুরু ও শাবান মাসে শেষ হয়। শিক্ষাবর্ষ তিনটি পর্বে বিভক্ত:
প্রথম সাময়িক পরীক্ষা: সফর মাসের প্রথম সপ্তাহ
দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা: জুমাদাল উলা মাসের প্রথম সপ্তাহ
বার্ষিক পরীক্ষা: শা’বান মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ
বিভাগের প্রয়োজনে পরীক্ষার তারিখ কিছু পরিবর্তণ করা হতে পারে।
প্রত্যেক পরীক্ষার পরে এক সপ্তাহ ছুটি, ঈদুল আযহার জন্য ১২/১৩ দিনের ছুটি।

বিভাগীয় প্রধান: বিশিষ্ট আলিম, গবেষক তুলনামূলক ধর্মতথ্য: শায়খ মুশাহিদ আলী চমকপুরী

ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যাঃ

উচ্চতর দাওয়া ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান বিভাগঃ ২০

উচ্চতর হাদীস গবেষণা বিভাগ 

 

হাদীস গবেষণা ও উলূমুল হাদীস

বিশুদ্ধ সুন্নাহ নির্ভর জীবন ও সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত বিশুদ্ধ হাদীস বিষয়ক সচেতনতা। এবং এ বিষয়ক অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি অপসারণ। ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সকল দিকে হাদীসের গুরুত্ব। হাদীসের প্রামাণ্যতা, হাদীসের বিশুদ্ধতা। দুর্বলতা ও জালিয়াতি নির্ধারণে মুহাদ্দিসগণের নীতিমালা। মুসতালাহুল হাদীস, উলূমুল হাদীস, ইলমুর রিজাল। জারহ-তাদীল, ইলমুত তাখরীজ ইত্যাদি বিষয়ে। আন্তর্জাতিক মানের গবেষক আলিম তৈরির উদ্দেশ্যে। ‘জামিআতস সুন্নাহ’ ‘তাখাসসুস ফী উলূমিল হাদীশিশ শারীফ’। নামে দু বছর মেয়াদী। হাদীস বিষয়ক উচ্চতর গবেষণা কোর্স চালু করেছে।

পাঠ্যক্রম, শিক্ষা পদ্ধতি ও ভর্তি বিষয়ক তথ্যাবলি

এ বিভাগে দু বছর মেয়াদী। তাখাস্সুস বা উচ্চতর ডিপ্লোমা প্রদান করা হয়। শিক্ষাবর্ষ শাওয়ালে শুরু ও শাবান মাসে শেষ। শাওয়াল মাসের ১০-১২ তারিখের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ১৩/১৪ শাওয়াল থেকে পাঠদান ও অধ্যয়ন কার্যক্রম শুরু হয়।

উচ্চতর হাদীস গবেষণা বিভাগের পাঠ্যক্রম মূলত আরবী ভাষা নির্ভর। আরবী ভাষায় রচিত উলূমুল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন ও অনুধাবনে সক্ষমতা এ বিভাগে ভর্তির মূল শর্ত। আর এজন্য আরবী ভাষায় পূর্ণ দখলের পাশাপাশি। ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতার প্রয়োজন। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এ দক্ষতা নিশ্চিত করা হয়। পূর্ণকালীন ভর্তির পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। কুষ্টিয়ায় অধ্যয়নরত ছাত্রদের খণ্ডকালীন অধ্যয়নের ব্যবস্থা আছে। মাদরাসা থেকে দাওরাহ হাদীস বা ফাযিল পরীক্ষায় উত্তীণ ছাত্ররা ভর্তির আবেদন করতে পারে। তবে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীণ উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই আরবী। ও ইসলামী জ্ঞানের দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই শুধু ভর্তি করা হয়।

আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা দিবে। এবং লিখিত ও মৌখিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি ফরমের সাথে জন্ম-সনদ। নাগরিক সনদ, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশংসাপত্র। নিজের বা অভিভাবকের ভোটার আই. ডি. কার্ডের কপি। এবং দু কপি সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হবে।

এ বিভাগে শিক্ষার জন্য কোনো বেতন নেওয়া হয় না। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের আবাসন। খাদ্য ও শিক্ষা সবই আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বহন করে। জামিআর পরীক্ষায় বিশেষ মেধার স্বাক্ষর রাখলে তাকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। খণ্ডকালীন শিক্ষার্থীদের খাওয়া খরচ বহন করতে হয়। ভর্তিচ্ছুক সকলকেই ভর্তির সময় নিম্নের প্রদেয়গুলো প্রদান করতে হয়। ভর্তি ফি ১৫০০ টাকা, ফরম ও প্রস্পেক্টাস ১০০ টাকা, মোট ১৬০০ টাকা।

শিক্ষাবর্ষ ও ছুটি

হাদীস বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রমে ইসলামী চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়। শিক্ষাবর্ষ শাওয়ালে শুরু ও শাবান মাসে শেষ হয়। শিক্ষাবর্ষ তিনটি পর্বে বিভক্ত:
প্রথম সাময়িক পরীক্ষা: সফর মাসের প্রথম সপ্তাহ
দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা: জুমাদাল উলা মাসের প্রথম সপ্তাহ
বার্ষিক পরীক্ষা: শা’বান মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ
বিভাগের প্রয়োজনে পরীক্ষার তারিখ কিছু পরিবর্তণ করা হতে পারে।
প্রত্যেক পরীক্ষার পরে এক সপ্তাহ ছুটি। ঈদুল আযহার জন্য ১২/১৩ দিনের ছুটি। এবং বার্ষিক পরীক্ষার পরে শাওয়ালের। প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিভাগের ছুটি থাকে।

বিভাগীয় প্রধান: উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল মালেক সাহেব-এর বিশিষ্ট ছাত্র। উসতাদুল হাদীস, মাওলানা যাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব

ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যাঃ

উচ্চতর হাদীস গবেষণা বিভাগঃ ১৫

চলমান কর্মকাণ্ড ও প্রকল্পসমূহ


তাজবীদ ও অর্থসহ কুরআন শিক্ষা মক্তব

ট্রাস্ট সাধ্যমত শিশু, বয়স্ক ও মহিলাদের জন্য মসজিদ বা গৃহভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। এ সকল মকতবে প্রশিক্ষিত শিক্ষকগণ বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, কিছু সূরা ও সালাতে পঠিত যিকর-দুআগুলির অর্থ ও প্রয়োজনীয় মাসাইল শিক্ষা দেন।

কুরআন-শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স

আগ্রহী ইমাম, মুয়াজ্জিন, আলিম বা তালিব-ইলমদেরকে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, অর্থ ও প্রয়োজনীয় মাসাইল শিক্ষাদান পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের কিছু ভাতা প্রদান করা হয়। সফলভাবে উত্তীর্ণদেরকে কুরআন শিক্ষা মকতব প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করা হয়।

উলূমুস সুন্নাহ প্রশিক্ষণ কোর্স

তাওহীদ ও সুন্নতের চেতনায় সমৃদ্ধ আলিম ও দায়ী তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ছাত্রদেরকে ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে ১ বৎসর কুরআন, হাদীস, উলূমুল হাদীস, ফিকহ, আরবী, ইংরেজী, বাংলা ইত্যাদি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে পরবর্তী গবেষণা চালানোর জন্য সুযোগ ও সহায়তা দেওয়া হয়।

কুরআন, সুন্নাহ ও সীরাত গবেষণা কেন্দ্র

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর শরীয়াহ, সুন্নাহ ও সীরাত বিষয়ে গবেষণা এবং এ বিষয়ক বিভ্রান্তি, অপপ্রচার বা কুসংস্কার অপনোদন করে সঠিক সত্য প্রকাশ ও প্রচারের লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলা,্ ইংরেজী, আরবী ইত্যাদি ভাষায় গবেষণা গ্রন্থ, প্রবন্ধ, প্রচারপত্র, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি প্রকাশ ও প্রচার করা এ কেন্দ্রে কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট কিন্ডারগার্টেন : বালক ও বালিকা

সাধারণ শিক্ষার সকল চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আরবী ও ইসলামী শিক্ষায় দক্ষতা সম্পন্ন ইসলামী আদব ও শিষ্টাচারের মধ্যে পালিত জনশক্তি তৈরি উদ্দেশ্যে ১৯৯৮ সালে একাডেমীর প্রতিষ্ঠা। বিগত বছরগুলিতে মাধ্যমিক, বৃত্তি ও সমাপনী পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা ও কুচকাওয়াজে একাডেমীর ছাত্র-ছাত্রীরা বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। একই পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচীতে পর্দার সাথে বালিকাদের লেখাপড়ার জন্য বালিকা মাদরাসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১১ সাল থেকে।

আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স

৪৮ প্যারিদাস রোড বাংলা বাজার ঢাকা। সুন্নাহ ভিত্তিক ও সুন্নাহ কেন্দ্রিক গবেষণা কর্মাদি প্রকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে “আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স”। এ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি গবেষণা কর্ম প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যান্য কর্মকাণ্ড ও প্রকল্পসমূহ


উপর্যুক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে ট্রাস্ট নিম্নের ৬টি শাখার মাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে:

পরিকল্পনাধীন কর্মকাণ্ড ও প্রকল্পসমূহ 


আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট ক্রমান্বয়ে নিম্নের প্রকল্প ও কর্মকাণ্ডগুলি শুরু করবে, ইনশা আল্লাহ।

আস-সুন্নাহ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক কুরআন শিক্ষা কোর্স
  • কুরআন শিক্ষা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • অর্থ-সহ হিফজুল কুরআন বিদ্যালয়
  • শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা শিক্ষা কোর্স
  • মাদরাসা শিক্ষিতদের জন্য আরবী ভাষা কোর্স
  • শিক্ষিতদের জন্য অর্থ-সহ কুরআন শিক্ষা কোর্স
  • কর্মজীবীদের জন্য নৈশ মাদ্রাসা
  • গ্রন্থ ভিত্তিক ‘হালাকা’ বা ইলমী মাজলিস
  • অর্থ-সহ কুরআন মুখস্থ প্রতিযোগিতা
  • অর্থ-সহ হাদীস মুখস্থ প্রতিযোগিতা
  • ইমাম প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রকল্প
  • আস-সুন্নাহ এওয়ার্ড
  • মাজলিসু সুন্নাহ
  • অভিভাবক, অভিভাবিকাদের কুরআন ও জরুরী মাসআলা শিক্ষাদান
0

নূরানী
বিভাগ

0

হিফজ
বিভাগ

0

কিতাব
বিভাগ

0

উচ্চতর দাওয়াহ
বিভাগ

0

উচ্চতর হাদীস গবেষণা
বিভাগ

0

আল ফিক্হ ও আকীদা
বিভাগ