প্রতিষ্ঠাতা

আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ, যিনি ছিলেন এই উপমহাদেশের অন্যতম সেরা আলিম এবং মুজাদ্দিদ।

ড. খোন্দকার আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)
সার্টিফিকেটে: ১৯৬১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।
কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, প্রকৃত জন্ম তারিখ: ১৯৫৮ সালের ৫ নভেম্বর।
মৃত্যু: ১১ই মে, ২০১৬ ঈসায়ী। তাঁর সমগ্র জীবনকাল ছিল ৫৮ বছর।

মূল নাম খোন্দকার আবু নসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। তিনি আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর নামে দেশ জুড়ে পরিচিত। বৃহত্তর যশোর জেলার তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার শৈলকুপা থানার দিগনগর গ্রামের মিঞা বাড়িতে ১৯৫৮ সালের ৫ নভেম্বর, বাংলা ১৩৬৫ সালের ১৯ কার্তিক, হিজরী ১৩৭৮ সালের ২৩ রবিউস সানি বুধবার বিকাল ৪ ঘটিকায় এই ক্ষণজন্মা মানুষটি তাঁর মায়ের নানা ইমান আলী মিঞার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতা খোন্দকার আনোয়ারুজ্জামান রাহ. [১৯৩০-১৯৮৩ ঈসায়ী], দাদা খোন্দকার ঈসমাইল হোসেন রাহ.। মাতা বেগম লুৎফুন্নাহার রাহ. [১৯৪৩-২০১৯ ঈসায়ী], নানা হোসেন আলী মিঞা রাহ.। ঝিনাইদহ সদরের নরহরিদ্রা তাঁর নিজের গ্রাম। পরবর্তীতে তাঁর পিতা ঝিনাইদহ সদরে ধোপাঘাটা গোবিন্দপুর গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। যদিও তাঁর শৈশব কেটেছে মুরারিদহে মিঞার দালান খ্যাত বাড়িতে। 

১৯৬৮ সালে পিতার ইচ্ছায় ঝিনাইদহ আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। এই মাদরাসা হতে ১৯৭৩ সালে দাখিল, ১৯৭৫ সালে আলিম এবং ১৯৭৭ সালে ফাযিল পাশ করেন। তিনি উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে মাদরাসা-ই আলিয়া ঢাকায়, কামিলে (হাদীস বিভাগে) ১৯৭৭-৭৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। এবং উক্ত বিভাগ থেকে মাদরাসা বোর্ডে ৮ম স্থান অধিকার করে কামিল পাশ করেন।

বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসেবে ১৯৮০ সালে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (স্থাপিত ১৯৪০ সাল) কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে যশোর বোর্ডে ১ম স্থান অধিকার করেন।

তিনি ১৯৮১ সালে স্কলারশিপ নিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ লাভ করেন।

ঐতিহ্যবাহী ফুরফুরার পীর আবুল আনসার আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী আল-কুরাইশী রাহ.-এর তৃতীয় কন্যা মোছাম্মাৎ আফসানার সঙ্গে ১৯৮৫ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি মৃত্যুর সময় মা, স্ত্রী, ১ পুত্র, ৩ কন্যা, ৩ বোন রেখে যান।

তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য ছাত্রজীবন রিয়াদেই শেষ করেন। ইমাম মুহাম্মাদ বিন সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর লিসান্স শেষ হয় ১৯৮৬ সালে, মাস্টার্স শেষ হয় ১৯৯২ সালে এবং পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৯৮ সালে।


তিনি ১৯৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক এবং ২০০৪ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে আমৃত্যু সে বিভাগেই কর্মরত ছিলেন।


তিনি ১৯৯৮ সালে আল্ ফারুক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশুদ্ধ ইসলামী জ্ঞান ও মূল্যবোধ প্রচার ও মানবসেবার উদ্দেশ্যে ২০১১ সালে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে “আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট” প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান শিক্ষাপ্রচার, ধর্মপ্রচার, দুস্থ নারী ও এতিম শিশুদের সেবা ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

চেয়ারম্যানের বাণী, Dr. Abdullah Jahangir