As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 30

প্রশ্ন

(সামনের কাতারের কাউকে টেনে নেয়ার পর উক্ত ফাকা জায়গা পূরণ করা) একা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে যদি সামনের কাতারের কাউকে টেনে নেওয়া হয় তাহলে সামনের কাতারের ফাঁকা জায়গা কিভাবে পূরণ করবো?

উত্তর

এক্ষেত্রে দুই পাশের মুসুল্লিরা চেপে এসে উক্ত ফাঁকা জায়গা পূরণ করবে। হাদীস শরীফে এভাবে সরে এসে ফাঁকা জায়গা পূরণ করাকে অনেক সওয়াবে বিষয় হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বারা ইবনে আযেব রাঃ থেকে বর্ণীত এক হাদীসে তিনি বলেন: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الله وملائكته يصلون على الذين يصلون الصفوف الأول وما من خطوة أحب إلى الله من خطوة يمشيها العبد يصل بها صفا অর্থঃ রাসূল সা.বলতেন: নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা রহমতের দুয়া করেন ঐ ব্যক্তিদের জন্য যারা কাতারগুলোতে মিলেমিলে দাড়ায়। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হাটা-চলা হল, যা কাতারের সাথে মিলে দাড়ানোর জন্য হয়ে থাকে। সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব,১/১২২, বাব, আত তারগীব ফী ওয়াসলিস সুফুফ ওয়া সাদ্দিল ফারজ। শায়েখ আলবানী হাদীসটি সহী লিগায়রিহী বলেছেন। আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণীত অপর একটি হাদীসে রাসূল সা. বলেন: إن الله عز و جل وملائكته عليهم السلام يصلون على الذين يصلون الصفوف ومن سد فرجة رفعه الله بها درجة অর্থঃ নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করেন ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের জন্য যারা কাতারের সাথে মিলে দাড়ায়। আর যারা ফাকা জায়গা বন্ধ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। শায়েখ শুয়াইব হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বাল,তাহকীক,শুয়াইব আরনাইত, ৬/৮৯ (২৪৬৩১) বাব, হাদীসু সায়্যিদাতু আয়েশা রাঃ। আবু হুরাইরা রাঃ রাসূল সা. থেকে বর্ণানা করেন, তিনি বলেছেন: من سد فرجة في صف رفعه الله بها في الجنة درجة، وبنى له في الجنة بيتاً অর্থঃ যে ব্যক্তি কাতারের ফাকা জায়গা পূরণ করবে আল্লাহ জান্নাতে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মান করবেন। আত-তারগীব ওয়াত তারহীব,৩/৩০ (২০০৯)। নামাযের ভিতর প্রয়োজনে হাটা-চলা করার বৈধতার ব্যাপারে চারমাযহাবের উলামায়ে কেরাম একমত। হানাফী উলামায়ে কেরাম বলেন:যদি ব্যক্তি শরীয়ত সম্মত প্রয়োজনে নামাযের মধ্যে হাটা-চলা করে (কেবলামুখি অবস্থায়) তাহলে তার নামায নষ্ট হবে না। ফাতওয়াযে হিন্দিয়্যাতে এসেছে: وَلَوْ مَشَى فِي صَلَاتِهِ مِقْدَارَ صَفٍّ وَاحِدٍ لَمْ تَفْسُدْ صَلَاتُهُ وَلَوْ كَانَ مِقْدَارَ صَفَّيْنِ إنْ مَشَى دَفْعَة وَاحِدَةً فَسَدَتْ صَلَاتُهُ وَإِنْ مَشَى إلَى صَفٍّ وَوَقَفَ ثُمَّ إلَى صَفٍّ لَا تَفْسُدُ كَذَا فِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ অর্থঃযদি ব্যক্তি নামাযে এক কাতার পরিমান হেটে যায় তার নামায নষ্ট হবে না। আর যদি দুই কাতার পরিমান হেটে যায়,সেক্ষেত্রে মাঝের কাতারে না থামলে নামায হবে না। যদি থামে তাহলে নামায হয়ে যাবে ভাঙ্গবে না। ফাতওয়ায়ে কাজী খানে এমনই আছে। ৩/৩১৯, কিতাব, আস সালাম, বাব, ফী মা ইফছিদুহা। ফাতওয়ায়ে শামীতে ইবনে আবেদীন রহঃ বলেন: مَشَى مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ هَلْ تَفْسُدُ إنْ قَدْرَ صَفٍّ ثُمَّ وَقَفَ قَدْرَ رُكْنٍ ثُمَّ مَشَى وَوَقَفَ كَذَلِكَ وَهَكَذَا لَا تَفْسُدُ ، وَإِنْ كَثُرَ مَا لَمْ يَخْتَلِفْ الْمَكَانُ অর্থঃব্যক্তি কিবলামুখি হয়ে হাটলো, তার নামায কি নষ্ট হয়ে যাবে, যদি এক কাতার পরিমাণ হেটে এক রুকুন পরিমান থেমে থেকে আবার হাটে এবং এপরিমান থেমে থেকে এভাবে হাটতে থাকে? তার নামায নষ্ট হবে না যদিও হাটার পরিমান বেশী হয়ে থাকে, যদি নামাযের জায়গা ভিন্ন না হয়। (যেমন মসজিদের সীমানার বাইরে চলে যওয়া)। কিতাব, আস সালাত, বাব, মাশইউল মুসুল্লি মুস্তাকবিলাল কিবলাতি।