As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 31

প্রশ্ন

tahiyatul mosjid shuru korasi othoba ak rakat por jodi foroj namajer ekamot hoy,tokhon namaj sarar podhoti ki? salam firate hobe ki?

উত্তর

তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়া অবস্থায় ফরজ নামায শুরু হলে করণীয়এবং ফরজ নামাযের সময় নফল শুরু করার বিধান: হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَة অর্থ: যখন নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন ফরজ নামায ছাড়া অন্য কোন নামায নেই। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭১০। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে আলেমগণ ঐক্যমত পোষন করেছেন যে ফরজ নামাযের ইকামত হলে কোন নফল নামায শুরু করা যাবে না। তবে হানাফী এবং মালেকী মাযহাবের আলেমগন বিশেষ সর্তসাপেক্ষে শুধুমাত্র ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামায পড়ার অনুমতি দিয়েছেন। শর্তসমূহ নিম্মরুপ: ১. রাকআত পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা থাকা। ২. মসজিদের বাইরে অথবা পিছনের দিকে কাতার থেকে দূরে কোথাও পড়া। ইমাম নববী রহ. উক্ত হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন, فِيهَا النَّهْي الصَّرِيح عَنْ اِفْتِتَاح نَافِلَة بَعْد إِقَامَة الصَّلَاة ، سَوَاء كَانَتْ رَاتِبَة كَسُنَّةِ الصُّبْح وَالظُّهْر وَالْعَصْر أَوْ غَيْرهَا ، وَهَذَا مَذْهَب الشَّافِعِيّ وَالْجُمْهُور ، وَقَالَ أَبُو حَنِيفَة وَأَصْحَابه : إِذَا لَمْ يَكُنْ صَلَّى رَكْعَتَيْ سُنَّة الصُّبْح صَلَّاهُمَا بَعْد الْإِقَامَة فِي الْمَسْجِد مَا لَمْ يَخْشَ فَوْت الرَّكْعَة الثَّانِيَة . وَقَالَ الثَّوْرِيّ : مَا لَمْ يَخْشَ فَوْت الرَّكْعَة الْأُولَى . وَقَالَتْ طَائِفَة : يُصَلِّيهِمَا خَارِج الْمَسْجِد وَلَا يُصَلِّيهِمَا بَعْد الْإِقَامَة فِي الْمَسْجِ এই হাদীসের ভিতর স্পষ্ট ভাবে ইকামতের পরে নফল নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। চাই সেটা সুন্নাতে রাতেব হোক, যেমন, ফজর, যোহর, আসরের সুন্নত হোক বা অন্য সুন্নত হোক (যেমন, তাহিয়্যাতুল মসজিদ)। এটাই ইমাম শাফেয়ী এবং জমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত। আবু হানিফা এবং তার ছাত্ররা বলেছেন, ফজরের সুন্নত না পড়তে পারলে মসজিদের মধ্যে পড়ে নিবে যদি দ্বিতীয় রাকআত ছুটে না যায়। ইমাম ছাওরি বলেছেন, যদি প্রথম রাকআত ছুটে না যায়। একদল আলেম এই অভিমত ব্যক্ত করেছন যে, ইকামতের পর মসজিদের বাইরে পড়বে, ভিতরে পড়বে ন। শরহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম ৩/২৮। তিনি আরো বলেছেন, وقال مالك مثله ان لم يخف فوت الركعة فان خافه صلى مع الامام এবং মালেক রহ. অনুরুপ মত পোষন করেন, যদি রাকআত ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকে। সুতরাং যদি নামায ছুটে যাওয়ার ভয় করে তাহলে ইমামের সাথে ফরজ নামায পড়বে। আলমাজমু ফি শরহিল মুহাযযাব ৪/২১২ আল্লামা আনোয়ার শাহ্ কাশ্মীরী উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, قال الظواهر : من كان يصلي فأقيمت انقطعت صلاته وليس هذا عند أحد ، وأما إذا أقيمت فلا يشرع في صلاة إلا في سنتي الفجر عند الأحناف والموالك ، ومذهب الأحناف أن يأتي بهما بشرط وجدان الركعة وأدائهما خارج المسجد ، وأما الموالك فقال مالك : يأتي بهما خارج المسجد بشرط رجاء وجدان الركعتين আহলে জাহেরগণ বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি (সুন্নত) নামায পড়ে আর ফরজ নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন সে সুন্নত নামায ছেড়ে দিবে। অন্য কেউ এমন কথা বলেনি। পক্ষান্তরে যখন ইকামত দেয়া হয় তখন সুন্নত নামায শুরু করা যাবে না। তবে হানাফী এবং মালেকীদের নিকটে ফজরের সুন্নত আদায় করবে। হানাফীদের অভিমত হলো রাকআত পাওয়া যাবে এবং মসজিদের বাইরে আদায় করবে এই শর্তে আদায় করা যাবে।আর ইমাম মালেক র. বলেছেন, মসজিদের বাইরে এই শর্তে আদায় করা যাবে যে, দুই রাকআত পাওয়ার আশা থাকবে। আলআরফুশ শাজি লিল কাশ্মীরী ১/৪৭০ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.), আবু দারদা (রা.) প্রমুখ সাহাবী এবং কতিপয় তাবেয়ী থেকেও বর্ণিত আছে যে, তারা ফজরের জামায়াত শুরু হওয়ার পরেও মসজিদের বাইরে, রাস্তায় বা দূরবর্তী কোন কোণে সুন্নাত পড়ে জামাতে শরীক হতেন। শরহে মায়ানিল আছার ১/২৫৪-২৫৬। তবে অনেকগুলো হাদীসে রাসূল সা. ফজরের জামাতয়াত শুরু হলে সুন্নত পড়তে নিষেধ করেছেন। যেমন: মালিক ইবনে বুহাইনা (রা.) থেবে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَجُلاً يُصَلِّى وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ أَتُصَلِّى الصُّبْحَ أَرْبَعًا. ফজরের ইকামত শুরু হলো।রাসূল (সা.) দেখেন মুয়াজ্জিনের ইকামতের সময় এক ব্যক্তি নামায (সুন্নত নামায) পড়ছে। তখন তিনি বলেন, তুমি কি ফজরের সালাহ চার রাকআত আদায় করবে। মুসলিম, হাদীস নং৭১১। অন্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, أقيمت صلاة الصبح فقام رجل يصلي الركعتين فجذب رسول الله صلى الله عليه و سلم بثوبه فقال أتصلي الصبح أربعا ফজরের নামাযের ইকামতের পরে এক ব্যক্তি দু রাকআত সুন্নত পড়তে শুরু করে, তখন রাসূল (সা.) তার কাপড় ধরে টান দিয়ে বললেন,তুমি কি ফজর চার রাকআত পড়বে। মুসানাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১৩০। শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে কিছু কিছু আলেম বলেন, সুন্নত বা নফল নামায পড়াকালীন সময়ে যদি ফরজ নামায শুরু হয়ে যায় তাহলে সুন্নত ছেড়ে দিয়ে ফরজে শরীক হতে হবে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে সুন্নাত ছেড়ে দিবে না বরং হালকাভাবে আদায় করবে। নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হল: আল্লামা কাশ্মীরী র. উক্ত হাদীসের আলোচনায় বলেন, ذهب طائفةٌ من أهل الظواهر إلى ظاهر الحديث، وقالوا: إن أُقِيمَتِ الصلاةُ وهو في خلال الصلاة بَطَلَتِ صلاته، ولم يَذْهَب إليه أحدٌ من الأئمة غيرها. وقال الجمهور: بل يُتِمُّها ولا يقطعها আহলে জাহেরদের একটি দল হাদীসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহন করেন। তারা বলেন, সুন্নত নামায পড়া অবস্থায় ফরজ নামাযের ইকামত দিলে সুন্নত বাতিল হয়ে যায়। তারা ছাড়া ইমামদের কেউ এমন কথা বলেননি। অধিকাংশ আলেম বলেছেন, সুন্নত পূর্ণ করবে, ছেড়ে দিবে না। ফাইজুল বারী ফি শরহি সহীহ বুখারী ২/৪২২। প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে কুদামাহ আল মুকাদ্দেসী বলেন, وإذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة فإن كان نافلة أتمها إلا أن يخشى فوات الجماعة فيقطعها যখন ফরজ নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন ফরজ ব্যতিত অন্য কোন নামায নেই। যদি ঐসময় নফল (সুন্নত) নামায পড়তে থাকে তাহলে পূর্ণ করবে। তবে জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে ছেড়ে দিবে। ঝা-দুল মুসতাক্বনী ১/৫৩ সউদি আরবের প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ আল্লামা শানকিতি বলেন, أن تقام الصلاة وأنت في أثناء الصلاة، فإن غلب على ظنك أنك سوف تتم الصلاة قبل أن يركع الإمام ويمكنك أن تدرك الركعة معه فحينئذ تتم الصلاة على قول جماهير العلماء، خلافاً للظاهرية وأهل الحديث، حيث قالوا: إذا أقيمت الصلاة -حتى ولو غلب على ظنك أنك تدرك الإمام في ركوعه- فإنك تقطع هذه الصلاة، ولو كنت في آخرها؛ لظاهر قوله صلى الله عليه وسلم: ( فلا صلاة إلا المكتوبة ) والصحيح مذهب الجمهور؛ لأن الله يقول -كما في التنزيل- : { وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ } [محمد:৩৩]، فنهانا عن إبطال العمل، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: ( إن خير أعمالكم الصلاة )، فنهانا الله عن إبطال العمل، والصلاة عمل، فلا نبطلها إلا بوجه بين، فإنه إذا غلب على ظنك أنك مدرك للركعة جمعت بين الأمرين، والقاعدة: (الجمع بين النصين أولى من العمل بأحدهما وترك الآخر) অর্থ: নামাযের ইকামত দেয়া হচ্ছে আর তুমি সুন্নত নামায পড়ছো এই অবস্থায় যদি তোমার ধারণায় প্রবল হয় যে, ইমাম সাহেব রুকু করার পূর্বেই তুমি সুন্নত শেষ করতে পারবে এবং তোমার পক্ষে তার সাথে রাকআত পাওয়া সম্ভব তাহলে জমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত হলো তুমি সুন্নত নামায পূর্ণ করবে। আহলে জাহের এবং আহলে হাদীসগণ এর বিপরীত মত পোষন করেন। তারা বলেন, যখন ইকামত দেয়া হবে তখন তুমি এই নামায ছেড়ে দিবে, যদিও তোমার ধারণায় প্রবল হয় যে, তুমি ইমাম কে রুকুতে পাবে, কিংবা তুমি নামাযের শেষ দিকে থাক। উক্ত হাদীসের জাহেরী অর্থ গ্রহন করে তারা একথা বলেন।সহীহ হলো জমহুরের মাজহাব। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,তোমরা তোমাদের আমলকে নষ্ট করো না। (সূরা মুহাম্মাদ:৩৩)। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল বাতিল করতে নিষেধ করেছেন। আর রাসুল সা. বলেছেন, তোমাদের সবচেয়ে উত্তম আমল হলো নামায। (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৭৭)। হাদীসটি সহীহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল বাতিল করতে নিষেধ করেছেন আর নামায হলো আমল সুতরাং সুষ্পষ্ট কারণ ছাড়া আমরা আমল বাতিল করব না। তাই যখন তোমার ধারণায় প্রবল হবে যে, তুমি রাকআত পাবে তখন উভয়টিকে (কুরআন ও হাদীস) একত্রিত করবে। আর কায়দা হলো একটির উপর আমল করে আরেকটি ছেড়ে দেয়া থেকে দুই নসের মাঝে সমন্বয়সাধন করা উত্তম। শারহু ঝাদিল মুসতানকী ৬/৫৮ কুতুবুল ফিক্হ গ্রন্থাকার বলেছেন, وإن أقيمت الصلاة وهو في صلاة نافلة قد أحرم بها من قبل ; أتمها خفيفة, ولا يقطعها ; إلا أن يخشى فوات الجماعة ; لقول الله تعالى : وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ فإن خشي فوت الجماعة, قطع النافلة ; لأن الفرض أهم আর যদি ব্যক্তি নফল নামায পড়া অবস্থায় ফরজের ইকামত দেয়া হয় যে নফলের তাহরীমা সে আগেই করেছিল তাহলে হালকা ভাবে সে তা পূর্ণ করবে।ছেড়ে দেবে না। তবে যদি জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা করে তাহলে ছেড়ে দিবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা তোমাদের আমলকে নষ্ট করো না। তবে যদি সে জামায়ত ছুটে যাওয়ার আশংক করে তাহলে নফল ছেড়ে দিবে। কেননা ফরজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কুতুবুল ফিক্হ ৩/৬৫। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন আল ইনসাফ ২/১৫২ উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, অধিকাংাশ আলেমের মতে ফরজ নামায শুরু হলেই তাহিয়্যাতুল মাসজিদ ছেড়ে দেয়া যাবে না। বরং ফরজ ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকলে তা পূর্ণ করবে। তবে যদি ফরজ ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে সহীহ মতানুযায়ী ছালামের মাধ্যমে সুন্নত ছেড়ে দিবে। কেননা আলী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন, مفتاح الصلاة الطهور وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم অর্থ: নামাযের চাবি হলো পবিত্রতা আর তার সূচনা হলো তাকবীর আর শেষ হলো সালাম। আল্লাহ তায়লা সবচেয়ে ভাল জানেন।