As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 63

প্রশ্ন

আস-সালামু আলাইকুম। আমি একজন চাকুরিজিবি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রতি বছর যাকাত প্রদান করি। আমার প্রশ্ন হল আমার স্ত্রির যে গহনা আছে (সারে ৭ ভরির কম, আনুমানিক ৫ ভরি) তার যাকাত আমাকে বা তাকে দিতে হবে কিনা? উল্লেখ যে, আমার স্ত্রির নিজের কোন আয় নেই, এবং তার নামে বেঙ্ক এ কোন টাকাও নেই।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। হ্যাঁ, আপনার স্ত্রীর উপর ফরজ হলো তার ব্যবহৃত গহনার যাকাত আদায় করা। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. গহনার যাকাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে গহনার যাকাত দিতে হবে কি না এই বিষয়ে আলেমদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে আর সহীহ সুন্নাহর আলোকে গহনার যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মতটিই শক্তিশালী । নিচে গহনার যাকাত ওয়াজিব হওয়ার দলীল উল্লেখ করা হলো: .১عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا وَفِى يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهَا ্র أَتُعْطِينَ زَكَاةَ هَذَا গ্ধ. قَالَتْ لاَ. قَالَ ্র أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللَّهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ গ্ধ. قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُولِهِ. অর্থ: আমর ইবনে শুয়াইব তার পিতা থেকে তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট আসলেন, তার সাথে তার মেয়ে ছিল আর মেয়েটির হাতে ছিল স্বর্ণের দুটি মোটা চুরি। রাসূলুল্লাহ সা. তাকে বললেন, তুমি কি এর জাকাত দাও? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাকে কি এটা আনন্দ দিবে যে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তায়ালা তোমাকে (এর কারণে) আগুনের চুরি পরিয়ে দিবে। বর্ণনাকারী সাহাবী বলেন, তখন সে ঐচুরি দুটি নবী সা. এর কাছে দিল এবং বলল, এদুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৬৫। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ২৪৭৯। হাদীসটিকে কোন কোন মুহাদ্দিস হাসান বলেছেন আবার কোন কোন মুহাদ্দিস সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী রহ . ও শাইখ শুয়াইব আরনাউত হাসান বলেছেন। দেখুন: সহীহ আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৯৬: সুনানে আবু দাউদ, তালীক শুয়াইব আর নাউত, হাদীস নং ১৫৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে কাত্তান (৬২৮হি.) বলেছেন, সনদ সহীহ। বায়ানুল ওহমী ওয়াল ইহাম, ৫/৩৬৬ । আল্লামা ইবনে হাজার রহ. বলেছেন, সনদ শক্তিশালী। বুলুগুল মারম,১/২৫৫। .২عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَرَأَى فِى يَدِى فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ فَقَالَ ্র مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ গ্ধ. فَقُلْتُ صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ ্র أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ গ্ধ. قُلْتُ لاَ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ. قَالَ ্র هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ গ্ধ. অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনে হাদী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা আয়েশা রা. এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমার কাছে আসলেন। তখন তিনি আমার হাতে রুপার একটি আংটি দেখে বললেন, এটা কি? আয়েশা! আমি বললাম, আমি এটা বনিয়েছি আপনার সামনে সজ্জিত হওয়ার জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি তার যাকাত দাও? আমি বললাম না। তখন তিনি বললেন, তোমার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৬৭। হাদীসটি সহীহ। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, উমদাতুল কারী,১৩/৪৫৬; সহীহ আবু দাউদ,হাদীস নং ১৩৯৮। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী ও হাকিম রহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী। দেখুন,আত-তালখিসুল হাবীর, ২/৩৯০; আলমুসতাদরক লিল হাকিম, হাদীস নং ১৪৩৭। উপরের হাদীস দুটি থেকে স্পষ্ট যে, গহনার যাকাত দেয়া ওয়াজিব। সুতরাং আলেমদের মাঝে মতভেদ থাকলেও আমাদের জন্য উচিৎ ও অধিকতর নিরাপদ হলো অলংকারের যাকাত আদায় করা। নতুবা এটা আমাদের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়ে যেতে পারে। সুতরাং আপনার স্ত্রীর জন্য আবশ্যক হল তার অলংকারের যাকাত দেয়া। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।