As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 62

প্রশ্ন

আমার মায়ের বয়স ৬৩ বছর। তিনি একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ২/৩ মাসের মধ্যে তাঁর অপারেশন দরকার। যদিও তিনি এই মুহূর্তে মোটামুটি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু অপারেশন না করালে ডাক্তারগণ আশংকা করছেন ২/৩ বছরের মধ্যে প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় উনি চাচ্ছেন অপারেশনের আগে এমন কিছু ভালো কাজ করে যেতে যেন যদি অপারেশনে উনি না বাঁচেন তাহলে যেন আল্লাহর কাছে ভালো কিছু নিয়ে যেতে পারেন। আমরা বলেছি ভালো করে তাওবা-ইস্তিগফার করতে। প্রশ্ন ১- দয়া করে এমন কিছু কাজ বলুন যেন উনি মৃত্যুর আগে সেগুলো করে যেতে পারেন। আমাদের দেখামতে, উনি উনার জীবনে আল্লাহর বিধানমতো চলতে চেষ্টা করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্। স্পেসিফিক্যালি, উনার একটি ফ্ল্যাট আছে, উনি ভাবছেন এমন একটি নিয়্যত করবেন কিনা যে যদি অপারেশনে ভালো হয়ে যান, তাহলে সেটি বিক্রি করে আরেকবার হাজ্জ্ব করতে যাবেন (উনি একবার হাজ্জ্ব করেছেন)। উল্লেখ্য, আমার বাবা আল্লাহর রহমতে আর্থিকভাবে সচ্ছল, সুতরাং উনি ফ্ল্যাট বিক্রি করলে আমাদের (সন্তানদের) সমস্যা হবেনা ইনশাআল্লাহ। প্রশ্ন ২- উনার এই চিন্তাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন? এর চেয়ে ভালো কোন অপশন বলতে পারেন কি (যদি থাকে) যেটা উনি ফ্ল্যাট বিক্রি করা টাকা দিয়ে করতে পারেন? জাযাকাল্লাহু খাইরান কাসিরাহ।

উত্তর

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার আম্মা যে কাজ করার ইচ্ছা করছেন তাকে আরবীতে নযর বলে আর বাংলায় বলে মান্নত। বিপদে আপদে নযর বা মানত না করে দান করাই উত্তম। মানত হলো শর্ত সাপেক্ষ দান: এটি হলে আমি এটি করব। আর দান বা সাদাকা হলো নিঃশর্ত দান। মানত না করে দান করাই উত্তম। মান্নত করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। ইবনে উমার রা. বলেন, : نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، عَنِ النَّذْرِ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ অর্থ: নবী সা. মান্নত করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, মান্নত কোন কিছু কে বাধা দিতে পারে না। এদ্বারা শুধুমাত্র কৃপনের থেকে কিছু সম্পদ বের করা হয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০৮। এমন অর্থের আরো হাদীস অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। সুতরাং আপনার আম্মার উচিৎ মান্নত করা থেকে বিরত থাকা। তবে তিনি অপারেশনের পূর্বে ঐ ফ্লাটটি বা অন্য কোন সম্পদ দান করতে পারেন। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে, সদকা অর্থাৎ নফল দান বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। এবিষয়ে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো, حُذَيْفَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ، أَوْ عَلَيْهَا – لَجَرِيءٌ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ অর্থ: সাহাবী হুযায়ফা রা. বলেন, আমরা উমার রা. এর কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কে ফিৎনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস মুখস্ত রেখেছ? আমি বললাম, আমি, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) যেভাবে বলেছেন ( সেভাবে মুখস্ত রেখেছি)। উমার রা. বললেন, তুমি তো খুব সাহসী মানুষ। আমি বললাম, (রাসূল সা. বলেছেন,) পরিবার, ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মানুষ যে ফিতনা বা বিপদ আপদে পড়ে নামায, রোজা, দান সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ তা দূর করে দেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং হাদীস নং ৫২৫। এই বিষয়ে সহীহ ও যয়ীফ সনদে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, দান সদকা সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নত কাম্য নয় বরং দান সদকা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। সর্বাবস্থায় মানত করলে তা পূরণ করতে হবে। কুরআনের অনেক আয়াত ও বহু হাদীসে দান করার জন্য ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।