As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 6125

প্রশ্ন

আস-সালামু আলাইকুৃম। আমার যখন দেড় বছর বয়স, তখন আমার মা মারা যান। তারপর আমার বাবা আমার খালাকে বিয়ে করেন। আমি যখন বড় হই, তখন জানতে পারি আমার মা মারা যাবার পরে খালাকে বিয়ে করেন। ছোটবেলা থেকেই আমার সাথে কোনো ভালো আচরণ করেন নাই আমার বাবা মা। খারাপ ব্যবহার করেন এরপর পারিবারিক চাপে আমি আমার আত্মীয়দের বাসায় যেয়ে থাকা শুরু করি, পড়াশোনা করি কোনরকমে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও হই। তারপর ধৈর্য্যহারা হয়ে সম্পর্ক করে লুকিয়ে বিয়ে করি ৫ বছর আগে, ৩ বছরের মেয়ে আছে। মেয়ে হওয়ার পর থেকে আমাদের হাজবেন্ড ওয়াইফ এর মধ্যে কোন ভালো সম্পর্ক ছিলো না। আমাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিলো না তিন বছর ধরে। এক রুমে ঘুমাতামও না। আমাকে মানসিক- শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন উনি অনেক। গত দুই মাস আগে আমাকে মুখে তিন তালাক দেন, তারপর আমি বাবার বাড়ি চলে আসি।তারপর ফোন করে আবার তিন তালাক দেন। আর অনেক বার বলেছেন যে তুই চলে যা তোরে ছেড়ে দিবো আল্লাহর কসম দিয়ে বলে।এর কসম দিয়ে বলে তোর এই শেষ তোরে আমি ছেড়ে দেবো তুমি বাড়ি চলে যা।এরকম অনেকবারই বলেছেন।মুখে তালাক দেওয়ার ভিডিও আমার কাছে আছে আমি এখানে আছি, এই জন্য আমার বাবা-মা আমাকে ঢাকায় চলে যাইতে বলেন, তিন তালাক দেওয়ার পরও আমাকে তাঁর সাথে থাকতে বলেন, অথচ ওনারা হাদীস কুরআন বেশ মানেন অন্য বিষয়গুলো নিয়ে। কিন্তু ওনাদের নিজের দুই সন্তানের বেলায় সব ভালো চলে। আমি কোন ভাবে বোঝাতে পারতেছি না আমার বাবা-মা কে যে আমি ওই মানুষটার সাথে থাকা আর যায়েজ হবেন না , আমার তালাক হয়ে গেছে। তারা তাদের স্বার্থের কথা ভেবে আমাকে পাঠাতে চান সেখানে। আমার স্বাবেক স্বামী আমাকে ফোন করে প্রতিনিয়ত মানসিক অত্যাচার করে। এমনকি ওনার বাবা-মাও খুব বাজে ব্যবহার করতেন কারণ ওনারাও বিয়েটাকে মেনে নিতে পারেন নাই। কিন্তু ওনারা আমাকে ডিভোর্স লেটার দিতে চাচ্ছেন। এই অবস্থায় আমি আর এই স্বামীর সাথে থাকতে চাচ্ছিনা, এমনকি উনি জুম্মার নামাজ ও পড়েন না! আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, হিজাব পড়ি। এই অবস্থায় আমি তার কাছ থেকে কিভাবে মুক্তি পাবো! আমি নিজে ডিভোর্স দিলে আমার যাওয়ার কোন জায়গা নাই। আমি এখানে কারো বদনাম করার জন্য কিছু লিখি নাই, আমার সমস্যা বোঝানোর জন্য বিস্তারিত লেখা। আমি শারীরিক ভাবেও বেশ অসুস্থ থাকি বেশীরভাগ সময়। আমি শুধু আমার মেয়েকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই, ওই স্বামীর কাছে গেলে আবার আমাকে তালাক দিয়ে পাঠাবে। কেউ যদি ইচ্ছা-অনিচ্ছায় আমার সাথে ভুল করে থাকেন, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। জাজাকাল্লাহ খয়রন।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তিন তালাক দেওয়ার কারণে আপনার সঙ্গে আপনার স্বামীর চিরদিনের জন্য বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। সুতরাং তার সাথে সংসার করার কোন সুযোগ নেই। আপনি মোহরানা পাবেন। মেয়ের সকল খরচ আইনগতভাবে বাবার উপর। প্রয়োজনে আদলতের মাধ্যমে মিমাংসা করে নিতে হবে।

নিজের বাবা-খালা আপনার সাথে যে ব্যবহা করছে তা দু:খজনক। এখন বাকী জীবন ভাল থাকার জন্য যা করা দরকার সেগুলো আপনাকে করতে হবে।