As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 5908

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। বেশ কয়েক মাস হলো আল্লাহ্‌ তা’আলার অশেষ রহমতে আমি দ্বীনের পথে ফিরে আসার জন্য হিদায়েত পাই আলহামদুলিল্লাহ্‌। এবং আমি প্রতিনিয়ত আল্লাহ কাছে দু’আ করি যে হিদায়েত বাড়িয়ে দেন। আমি ব্যাচলর ছেলে ২২ বছর বয়স অনেক আগে থেকে মেসে থাকি। দ্বীনে ফেরার পর আমার বাজে বদ অভ্যাস গুলো আমি বাদ দিয়েছি সম্পূর্ণ, আমার পরিবর্তন দেখে মেসের প্রায় সব ভাইয়াদের মধ্য কিছু প্রভাব ফেলে এবং আমারও কষ্ট হয়। আমি খারাপ আচরণ করি না, তারা আমাকে দেখে হুজুর মাওলানা বলে সেটা আমার অনেক খারাপ লাগে, তবে সাধারণ বিষয় ভেবে চুপ করে থাকি। তাদের আড্ডায় বেশিক্ষণ থাকতে পারি না বলে আমি বান্দায় বসে থেকে হাদিস শুনি বা পড়ি। যখন বারান্দা থেকে আমি রুমে যাই সবাই লম্বা একটা সালাম দিয়ে বলে মাওলানা সাহেব তাহাজ্জুদ পড়া হলো?? তখন বাজে প্রায় রাত ১০টা। আবার কখনো কখনো হজ্জ এর কথাও বলে বসে। এটা বলে যে তারা গুনাহ করছে সেটা বুঝতেছি। তাদের মধ্য সব থেকে বেশি প্রভাব ফেলেছে আমার সব থেকে কাছের বন্ধুর। কেউ আমার কথা জিজ্ঞাসা করলে সে বলে যে আমি বারান্দায় তাহাজ্জদ করছি এ সকল কথা বলে দেখে মেসে সবাই প্রাই এই ধরনের কথা বলে। তাকে আমি দ্বীনের কথা বলি সে চুপ করে থাকে এবং শেষে বলে আমাকে সময় দে যখন আমি মউতের কথা স্মরণ করে দেই তখন বলে আমাকে একটা flow এর মাধ্যমে আসতে দে। flow এর মাধ্যমে আসতে আসতে সে অন্ধকারে চলে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত আমাকে কুটক্তি করছে এইসব কথা গুলো অন্যদের কেও বলে বেড়াচ্ছে। আমাদের মেসে প্রচুর ফেতনাহ এর ছোড়া ছড়ি। এখানে নামায পড়াও অনেক কঠিন কারণ এক রুমে ৩জন থাকা পাশের রুমের ভাই রাও এসে আমাদের রুমেই আড্ডা দেন ১-২টা পর্যন্ত এর পর তাহাজ্জুদ পড়া হয় না। এর আগে কোনো কারণে এশা মিস হয়ে গেলে বাসায় যখন পড়ি তখন কেউ না কেউ দেখে বলবে যে দেখো, দেখে কিছু শিখ, এটা বলে চলে যায় অথচ তিনি নিজেই নামায পড়েন না। এই সকলের মাঝে আমার দম বন্ধ হয়ে আসতেছে। আমার বন্ধু তার কারণে আমি অনেক কষ্ট পাচ্ছি, যেমন সে কাপড় চেঞ্জ করে আমার বিছানায় ফেলে বাহিরে চলে যায়, বলার পর বন্ধ হয়েছে আবার শুরু হয়ে যায়। আমি চাইনা আমার কারণে তারা কষ্ট পাক, আমি আল্লাহ্‌ কাছে দু’আ করি মেসের সবাইকে যেন আল্লাহ্‌ হিদায়েত দান করুন। তাদের মাঝে থাকা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মেসে আমার কিছু বকেয়া আছে যার কারণে মেস ছাড়তেও পারছি না। এমন সময়ে আমি কি করতে পারি?? এত সকল ফেতনাহ এর মাঝে আমি যদি আবার হারিয়ে যাই এ ভয় পাচ্ছি আমি। আমি এ জন্য কোন আমলটি করতে পারি। আর এই মুহুর্তে আমার কি করণীয় তা যদি বলতেন।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি আল্লাহ আপনাকে দ্বীনের পথে অটুট রাখুন এবং এই জাতীয় সক সমস্যা দূর করে দিন। ইসলামের পথে আসার কারণে এমন সমস্যার মুখোমুখি অনেকে হয়ে থাকে। এখন কাজ হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে দুআ করা, আল্লাহ যেন একটি ভালো পরিবেশের ব্যবস্থা করে দেন। ওখানে যে টাকাগুলো বকেয়া আছে সেগুলো দ্রুত পরিষোধ কর অন্য কোন ভালো যায়গায় যাওয়া।

আর নীচের এই দুআটি আরবীতে মুখস্ত করে পড়বেন।

اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مُصِيبَاتِ الدُّنْيَا وَمَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَاجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا وَلاَ تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا وَلاَ تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلاَ مَبْلَغَ عِلْمِنَا وَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لاَ يَرْحَمُنَا

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য বণ্টন কর তোমার ততটুকু ভয় যতটুকু আমাদের মাঝে এবং তোমার নফরমানীর মাঝে যেন আমাদের জন্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়, তোমার ততটুকু ফরমাবরদারী দাও যতটুকু আমাদের পৌছে দেবে তোমার জান্নাতে। ততটুকু ইয়াকীন দাও যতটুকু দ্বারা সহজ হয়ে যায় আমাদের জন্য দুনিয়ার বিপদাপদ। উপভোগর অবকাশ দাও আমাদের শ্রবন শক্তির, আমাদের দৃষ্টির, আমাদের শক্তির। যতদিন তুমি আমাদের জীবিত রাখবে ততদিন এগুলো তুমি বজায় রেখো। যারা আমাদর উপর যুলম করেছে তাদের উপর বদলা তুমিই নিও, যারা আমাদের শত্রুতা করে তাদের মুকাবিলায় তুমিই আমাদের সাহায্য করো। আমাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে আমাদেরকে বিপদাপন্ন করো না। দুনিয়ার চিন্তাই তুমি আমাদের বড় চিন্তায় পরিণত করো না। এটিকেই তুমি আমাদের জ্ঞনের চুড়ান্ত বানিও না, আর যারা আমাদের দয়া করবে না তাদেরকে তুমি আমাদের উপর আধিপত্য দিও না। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫০২। হাদীসটি হাসান।

এই দুআটি আল্লাহ রাসূল কোন বৈঠক শেষে ওঠার সময় পড়তেন । তবে অন্য যে কোন সময় পড়তেও কোন সমস্যা নেই। আপনি বেশী বেশী এই দুআটি পাঠ করবেন।

আরো একটি সুন্দর দুআ হলো

 “‏ اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي لِسَانِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَمِنْ فَوْقِي نُورًا وَمِنْ تَحْتِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ شِمَالِي نُورًا وَمِنْ بَيْنِ يَدَىَّ نُورًا وَمِنْ خَلْفِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي نَفْسِي نُورًا وَأَعْظِمْ لِي نُورًا 

“হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে নূর দিয়ে দিন, আমার জিহ্বায় নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে নূর দিন, আমার উপরে নূর, আমার নিচে নূর, আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার সামনে নূর এবং আমার পিছনে নূর দিন এবং আমার অন্তরে নূর প্রদান করুন এবং আমাকে বিরাট নূর দান করুন”। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৩। এই দুআটিও পাঠ করবেন।