As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 5887

প্রশ্ন

আসসালামুআলাইকুম, জনাব আমার প্রশ্নটি আমি কীভাবে উপস্থাপন করব বুঝতে পারছিনা। যদি কোনো ভুল হয় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি খুবই সাধারণ একটা মেয়ে। বয়স মাত্র ২০ বছর। পড়ালেখা ইন্টারমিডিয়েট সম্পূর্ণ করেছি। আমি সবসময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখি। আল্লাহ পাক আমাকে সব বিপদেই পথ দেখিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি তাঁর শোকরিয়া জ্ঞাপন করে শেষ করতে পারব না। কিন্তু এখন আমি এমন সমস্যার মধ্যে পতিত হয়েছি না আমি এর সমাধান খুঁজে পাচ্ছি না আমি এর থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছি। রাব্বুল আ’লামিনের দরবারে বারবার প্রার্থণা করছি যাতে আমাকে নাজাত দান করে। আমার দিনকাল ভালোই চলছিল। ইচ্ছে ছিল অনেক পড়ালেখা করার।আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দ্বীন নিয়ে গবেষণা করার। যদিও আমি জেনারেল লাইনে পড়ালেখা করেছি। একটু-আধটু হাদিস পড়েছি।কিন্তু করোনার মধ্যে শয়তানের ধোকায় পড়ে যাই।কথায় আছে, “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।” আমি হারাম রিলেশনশিপে জড়িয়ে যাই।তবে আমাদের মধ্যে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু যেটা হারাম সেটা তো হারাম।এর জন্য আমি আল্লাহর নিকট লজ্জিত। আল্লাহ আমাকে মাফ করুক। আল্লাহ আমাকে হেদায়েত নসীব করুক।দোয়া করবেন আমার জন্য।রিলেশনের ২বছর পর আমি আমার কাছের একজনকে এই ব্যাপারটা জানাই। আর তাকে মানা করি আমার আব্বু-আম্মুকে না জানাতে। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন। পরে আমার আব্বু-আম্মু জানতে পেরে খুবই হতাশ।তারা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তারা ভাবছে আমি আমার রিলেশনের জন্য এমন করেছি। আসলে তারা যে পাত্র ঠিক করেছিল তাকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে অপছন্দ করি।তার অনেক কারণ আছে। সে আমার ফুফাতোভাই হওয়ার সুবাদে আমি তাকে ছোটোবেলা থেকে চিনি। উল্লেখ্য যে,আমার ফুফু একবার তার এই ছেলের জন্যই আমার বাবার কাছে আমার বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু বাবা তখন না করে দেয়।এরপর থেকে আমার ফুফুদের সাথে আগের মতো তেমন ভালো সম্পর্ক ছিল না। আমার রিলেশনের কথা জানার পর বাবা নিজেই প্রস্তাব পাঠায় আমার ফুফুর কাছে। আর তারা রাজিও হয়। আমি আমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক চেষ্টা করেছি বিয়েটা ভাঙার। কিন্তু কেউ আমার কথা শোনে নি। আমার বাবা আমার গায়ে হাত পর্যন্ত তুলে। আমি তো সেই ছেলেটাকে পছন্দ করি না। তাহলে তার সাথে সারাজীবন কীভাবে কাটাবো? সেই ছেলেটার জীবনও তো নষ্ট হয়ে যাবে। আমি অনেকবার বুঝিয়েছি। কিন্তু তারা বুঝে নি।তাই বিয়ের দিন সকালে আমি অনেকগুলো ঘুমের ঔষধ খেয়ে ফেলি। আমার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা তাকে আমি বিয়ে করতে পারব না।আমার অবস্থা সেদিন খুবই নাজেহাল ছিল।আমার জ্ঞান ছিল না। আমি সবার কথা শুনতে পারছি কিন্তু কি করব বুঝতে পারছিলাম না। শুধু জানতাম বিয়ে করব না। কবুল বলার সময় আমি কবুর বলেছিলাম।তার জ্ঞান আমার ঠিক নেই। এখন আমার প্রশ্ন হলো আমার বিয়েটা কি হয়েছে? বিয়ের পর ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত আমাদের। এমনকি সে আমার গায়ে প্রতিনিয়ত হাত তুলতেও দ্বিধাবোধ করত না। পরপর তিনবার সে আমাকে তালাক দিয়েছে। এমনকি একদিনে একহাজার তালাকও দিয়েছে।আমার মা এই ব্যাপারটা জানত। কিন্তু লোকসমাজের ভয়ে কিছু বলে নি। এখন আমাদের কি তালাক হয়েছে? আর যদি হয়ে তাকে আমি তো তার জন্য হারাম। কিন্তু আমার যে কোথাও যাওয়ার রাস্তা নেই। আমার মা-বাবা যে তাকে পীরের মত মানে। সবসময় মনে করে আমি ভুল আর আমার ফুফাতোভাই যা বলছে সব ঠিক। এখন আমার কি করা উচিত? আমি তো চাই সমস্ত হারাম থেকে মুক্তি পেতে সেটা আমার প্রিয় হোক আর অপ্রিয় হোক। আমি চাই ইসলামিক জীবন ব্যবস্থায় সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পন করতে। শুধু হালাল নিয়ে বাঁচতে চাই। যদি তালাক হয়ে থাকে তাহলে আমি যদি কোনো পদক্ষেপ নেই তাহলে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে যেতে হবে। আর তারা আমাকে কখনোই ভালোবাসবে নাহ। আমাকে অনেক দূরে চলে যেতে হবে তাদের কাছ থেকে।এখন আমার কি করা উচিত হুজুর??আমি যে আর পেরে উঠছি না। মানুষ তো ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।মানুষ মাত্রই তো ভুল করে। আল্লাহ পাক তো আমাদের ভুল শোধরানোর সুযোগ দেন। আমার মা-বাবা কি পারত না আমাকে একটাবার সুযোগ দিতে? আমার সাথে একটাবার খোলামেলা কথা বলতে। আমি তো দিনদিন মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমি যে আর পেরে উঠছি না। এর থেকে নাজাতের পথ কি? আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আমাকে সাহায্য করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার আর্তনাদ আমি বলে বুঝাতে পারব না। আল্লাহ আপনাদের এবং আমাকে হেফাজতে রাখুক। আল্লাহুম্মা আমিন।         

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একটি অবৈধ সম্পর্ক কতো ধরণের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, আপনার ঘটনা তার একটি দৃষ্টান্ত। আপনার বাবা-মা আপনার ভালোর কথা চিন্তা করে আপনার ফুফাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিতে চান নি, কিন্তু যখন আপনি বিপথে চলে গেছেন তখন সেখান থেকে সরানোর জন্য তারা তার সাথে বিয়ে দিয়েছে। তারা হয়তো অন্য কোন ছেলে দেখার পর্যাপ্ত সময় পান নি বা সময় নিতে চান নি, আপনার অবস্থার দিকে লক্ষ্য করে। আপনার উচিত ছিল বাবা-মায়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তার সাথে ভালো ভাবে সংসার করা। কিন্তু সেটা হয় নি, যার কারণে সংসারে অশান্তি এসেছে, তালাক পর্যন্ত ঘটেছে। মেয়ের অমতে বাবা কোন মেয়েকে বিয়ে দিতে পারেন না, কিন্তু আপনার ঘটনা স্বাভাবিক ছিল না, অস্বাভাবিক অবস্থায় অস্বাভাবিক ভাবে বিয়েটা হয়েছে। এছাড়া তাদের হয়তো কোন বিকল্পও ছিল না। তারা হয়তো আপনাকে আরো পড়াশোনা করাতো, কিন্তু যখন দেখেছে পড়াশোনার চেয়ে অন্য কাজে আপনার মন বেশী,তখন তারা সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যাইহোক, আপনাদেরে তালাক হয়ে গেছে। আপনার আর একে অপরের স্বামী-স্ত্রী নন। এখনই আপনাদের আলাদা হয়ে হয়ে যেতে হবে। নতুন করে বিবাহ করেও আপনারা সংসার করতে পারবেন না, কারণ তিন বার তালাক দিয়েছে। আপনি আপনার পরিবারকে, বাবা-মাকে তালাকের বিষয়টি বলুন এবং দ্রুত আলাদ হয়ে যান। প্রয়োজনে স্থানীয় কোন আলেমের সাথে আপনার আব্বাকে যোগাযোগ করতে বলুন।

আর আল্লাহকে ভয় করে সামনে চলবেন। আল্লাহর কাছে সব সময় দুআ করবেন। হতাশ হবেন না, নিরাশায় ডুববেন না। আল্লাহ সব কিছু এক সময় ঠিক করে দিবেন। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন,وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ যে আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার একটা রাস্তা বের করে দিবেন। এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন যা কখানো সে কল্পনাও করে নি। যে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। সূরা তলাক, আয়াত ২-৩।