As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 5687

প্রশ্ন

আস সালামু আলাইকুস। আমার প্রশ্ন দুইটি যথা ১। আমার নিজ এলেকা শার্শা অঞ্চলে একটি মসজিদে আগে থেকে হানাফি মানাহাজ / দুই একজন আহলে হাদিস মানহাজের লোকেরা নামাজ আদায় করতো। হঠাৎ করে মসজিদের জমি দাতা যশোর ক্যান্টমেন্টে অবস্থান করার ফলে সেখানে তিনি আহলে হাদিস মানহাজ গ্রহন করে। ফলে এলেকাতে এসে নানা রকম কথা বলে বেড়ায় যে যারা হানাফি মাজহাবের লোক তাদের নামাজ হচ্ছেনা? তারই ধারাবাহিকতায় তিনি (মসজিদের জমি দাতা) একদিন ঘোষণা দিলো যে আজ থেকে হানাফি মাজহাবের লোকেরা কেউ হানাফি নিয়মে এই নিয়মে নামাজ পড়তে পারবেনা? নামাজ পড়লে আহলে হাদিসের নিয়মে পড়তে হবে? যার ফলে হানাফি মাজহাবের লোকেরা মনে কষ্ট নিয়ে ঐই মসজিদে অনেকে আর নামাজ যায় না। ইসলামী শরীয়াতে এই বিষয়ে সমাধান কি? ২। মসজিদের জমি দাতা একদিন ঘোষণা দিলো আমি যতদিন বেচে থাকবো ততদিন আমি এই মসজিদের সভাপতি থাকবো? আমি মরে গেলে আমি বউ সভাপতি হবে? এতে হানাফি মাজহাবের লোকেরা আপত্তি জানালো মহিলারা আবার মসজিদের সভাপতি হয় কিভাবে? কিন্তু তিনি (মসজিদের জমি দাতা) তাদের কথা আমলে নিলোনা। এরকিছু দিন পর তিনি (মসজিদের জমি দাতা) মসজিদের সামনে বড় করে লিখে দিলো মুহাম্মাদিয়া আহলে হাদিস জামে মসজিদ। এই লেখা দেখে এরপর হানাফি মাজহাবের লোকের ঠিক রাস্তার অপজিটিভ আরেকটি মসজিদে তৈরী করে তারা নামাজ আদায় শুরু করলো। আমার প্রশ্ন হলো? কোন মসজিদটা তাকওয়ার প্রতিষ্ঠিত? আর কোন মসজিদে নামাজ পড়লে নামাজ হবে? আশা করছি কুরান ও হাদিসের দলিল দিয়ে সমাধান দিবেন?

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঐ লোক একজন চরম মূর্খ। নয়তো এমন আচরণ করতো না। মসজিদে জমি দান করার পর তাতে আর ঐ ব্যক্তির মালিকানা নেই। এখন মালিকানা দাবি করা মূর্খতা। মসজিদ সকল মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত, সকল মুসলিমের সেখানে নামায আদায়ের অধিকার আছে। এখন যদি সে পেশী শক্তি দ্বারা কোন মুসল্লিকে নামায আদায়ে বাধা দেয়, সেটা তার জন্য হারাম হবে। এবং তাকে এই কাজে যে কোনভাবে সহয়তা করা হারাম হবে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে আল্লাহর নাম নিতে বাধা প্রদান করে এবং তাকে বিরান করার চেষ্টা করে? এরূপ লােকের তো ভীত-বিহ্বল না হয়ে তাতে প্রবেশ করাই সঙ্গত নয়। তাদের জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা এবং তাদের জন্য আখিরাতে রয়েছে মহা শাস্তি। সূরা বাকারা, আয়াত ১১৪। যদি নামায পড়তে না দেয় তাহলে তো বাধ্য হয়ে অন্য কোন মসজিদে যেতে হবেই। মসজিদ দূরে হওয়ার কারণে যদি যাওয়া আসা সমস্যা হয় তাহলে সুবিধামত জায়গাতে মসজিদে করতে হবে। তবে শত্রুতা করে নয়, বরং নামায পড়ার জন্য মসজিদ নেই সেই চিন্তা কর মসজিদ বানাতে হবে। তার আগে ঐ ব্যক্তিকে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে, যাতে সে এই নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত হয়ে কাউকে নামায আদায় করতে বাধা না দেয়। সকল মতের মানুষের যদি কোন মসজিদে নামায আদায়ের সুযোগ না থাকে তাহলে সেটাকে প্রকৃত মসজিদ বলা যায় না। যারাই জমি দান করুক, যারাই মসজিদ নির্মান করুক না কেন সকল মাজহাব ও সকল মতের মুসলিমদের মসিজেদে প্রবেশের অধিকার থাকতে হবে। এমনকি যদি সকল মুসলিমের প্রবেশাধিকার না থাকে তাহলে সেখানে জুমুআর সালাত হবে না বলে ফকীহরা বলেছেন। যে মসজিদে সকলের নামায-সালাতের সুযোগ আছে সেটাই প্রকৃত মসজিদ, সেখানেই সালাত আদায় করতে হবে। যেখান সকল মুসলিমের নামাযের অধিকার নেই সেটা আর তাকওয়ার উপর থাকে না।