আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 5312

যিকির দুআ আমল

প্রকাশকাল: 15 আগস্ট 2020

প্রশ্ন

মসজিদে কোন বিশেষ উদ্যেশ্যে দোয়া মাহফিল শেষে তবারক দেয়া হলে আগে কাকে বিতরণ করতে হবে? ইমাম সাহেব/সবচে ছোট শিশু?
আমাদের মসজিদে গত মহরমের ১০ আলোচনা করতে গিয়ে মিলাদ ও মোনাজাত শেষ হয় ৭.৩৫। শিশু মনিরা খুব ছুটাছুটি করছিল সেই বিকাল থেকে শিরনী খাওয়ার জন্য। ওদের ধৈর্য মানছিল না। ক্রমেই হৈচৈ করে যাচ্ছিল। তবারক এসে গেল সামনে। হঠাৎ কেউ বলে উঠল এখন তবারক দিলে নামায না পড়ে অনেকে চলে যাবে। তাই এশার জামাত নির্ধারিত সময় রাত ৮.২০ পরিবর্তে ৮ টায় শুরু হয়। ওদিকে শিশু মনিদের হুল্লোড়ে নামাযে মন দেয়াই কষ্টকর। ইসলামী যুক্তি কী এ বিষয়ে?
মিলাদ কিয়াম না পড়তে পারলে/ ইচ্ছাকৃত কোন খতিব না পড়তে চাইলে জুমআর নামায সেই ইমামের পেছনে পড়লে নামায হবে না? এটি কতটুকু যুক্তি সংগত?

উত্তর

মিলাদ-কিয়াম কুরআন-সুন্নাহ সম্মত কোন আমল নয়। এটা ইবাদতের নামে একটা বড় ধরণের বিদআত। যদি ইমাম সাহেব এই বিদআত কাজ না করেন তাহলে তো খুবই ভালো। আর যদি এই কাজে ইমাম সাহেব জড়িতে হন তাহলে যদি সম্ভব হয় এমন মসজিদে নামায পড়বেন যে মসজিদের ইমাম সাহবে সুন্নাহ অনুযায়ী চলেন, মিলাদ-কিয়াম বা এ জাতীয় বিদআত কাজ থেকে বিরত থাকেন। যে কোন খাবরের অনুষ্ঠানে শিশুদের আগে খাওয়ানো উচিত। এটাই মানবিকতার দাবি যে, বড়রা শিশুদের আনন্দ উল্লাস, তাদের ভালো লাগার প্রতি খেয়াল রাখবে। শিশুমনের বৈধ চাহিদাগুলো পূর্ণ বড়দের কর্তব্য। আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন, مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، ويَعْرِفْ حَقَ كَبِيرِنَا؛ فَليْسَ مِنَّا আমাদের মধ্যে যারা ছোট তাদের প্রতি যে দয়া করে না এবং আমাদের মধ্যে যারা বড়ো তাদেরকে যথাযথ সম্মান করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়। সুনানু আবি দাউদ, হাদীস নং ৪৯৪৫। হাদীসটি সহীহ। সবার আগে শিশুদের খাওয়ালেই দয়া দেখানো হবে, পরে খাওয়ালে তাদের প্রতি জুলুম হবে।