As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 452

প্রশ্ন

আস সালামু আলাইকুম, স্যার ১. পহেলা বৈশাখ এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে মূর্তিগুলো আনা তা হয় তা পূজার উদ্দেশ্যে নয় বা এই মূর্তিগুলো থেকে কিছু চাওয়ার আশাও করা হয় না বরং মিত্র পক্ষ এবং শত্রু পক্ষের চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করা হয় তথাপিও এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করা শিরক কেন? ২. পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য সময়ে যে কোন ধরনের মুখোশ ব্যবহার করাই কি হারাম? যদি কেউ যুদ্ধের সময় কোন পশুর মুখোশ বা শিরস্ত্রানে শিং বা এই জাতীয় কিছু ব্যবহান করে, সেটা কি হারাম হবে?

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১. প্রথমত, শোভাযাত্রায় মঙ্গল হয় এই বিশ্বাস কুফরী। এটা শিরকী চিন্তা। মঙ্গলের মালিক আল্লাহ তায়ালা। শোভযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল হয় এটা বস্তু পূজার অন্তর্ভূক্ত। দ্বিতীয়ত, মূর্তিগুলোর কাছে চাওয়া হয় না, পূজা করা হয় না, এটা একশতভাগ ঠিক কিন্তু এটা হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ, তাই এটা হারাম হবে। বিধর্মীদের ধর্মের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন যে কোন কিছু হারাম। এছাড়া হাদীসে আমরা যে কোন ধরনের প্রাণীর মূর্তি থেকে বিরত থাকার কথা দেখতে পায় । নিচের হাদীসগুলো লক্ষ করুন: ১.عَنْ أَبِى الْهَيَّاجِ الأَسَدِىِّ قَالَ قَالَ لِى عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ অর্থ: হযরত আবী হায়্যায র. বলেন, আমাকে আলী রা. বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করব না যে বিষয়ে রাসূল সা. আমাকে উৎসাহিত করেছেন? সেটা হলো তুমি দেখা মাত্র মূর্তি ভেঙ্গে ফেলবে আর উঁচু কবর সমান করে দিবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৮৭। ২.قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِىُّ فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ ্র أَرْسَلَنِى بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ অর্থ: হযরত আমর ইবনে আবাসাহ আস-সুলামী রা. বলেন আমি রাসূল সা. কে বললাম, আল্লাহ তায়ালা কি দায়িত্ব দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার জন্য, মূর্তিভাঙ্গার জন্য আর আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে, তার সাথে কাউকে শরীক করা হবে না। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৯৬৭। ৩.أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র أَتَانِى جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنِّى كُنْتُ أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِى أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ عَلَيْكَ الْبَيْتَ الَّذِى كُنْتَ فِيهِ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فِى بَابِ الْبَيْتِ تِمْثَالُ الرِّجَالِ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِى بِالْبَابِ فَلْيُقْطَعْ فَيَصِيرَ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ وَيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مُنْتَبَذَتَيْنِ يُوَطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَيُخْرَجْ فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَكَانَ ذَلِكَ الْكَلْبُ جَرْوًا لِلْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ تَحْتَ نَضَدٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَفِى الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِى طَلْحَةَ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আমার নিকট জিব্রীল আ. এসে বললেন, একটু আগে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনার কাছে আপনার ঘরে আমাকে প্রবেশ করতে বিরত রেখেছিল ঘরের দরজায় থাকা মানুষের প্রতিমূতি, ঘরের ভিতরে থাকা ছবি যুক্ত পর্দা এবং কুকুর। সুতরাং আপনি দরজায় থাকা প্রতিমূর্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন কেটে ফেলা হয় তখন সেটা গাছের আকৃতির মত হয়ে যাবে। আর পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তা কেটে ফেলা হয় এবং পাপোশ বানানো হয়। আর কুকুরটিকে বের করতে বলেন। তখন রাসূল সা. তা করলেন। আর কুকুরটি ছিল হাসান বা হুসাইনের, সেটি তাদের খাটের নিচে ছিল। তিনি তা বের করার নির্দেশ দিলেন আর তা বের করা হল। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮০৬। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসটিতে সুস্পষ্ট যে ইবাদতের নিয়তে কিংবা ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়াও কোন মূর্তি বা পুতুল রাখা যাবে না। কেননা উক্ত ঘরে কোন মূর্তি ইবাদতের জন্য বা ভ্রান্ত বিশ্বাসে যে রাখা হয়নি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে আলেমগণ একমত যে, যে কোন প্রাণীর এবং মানুষের যে কোন ধরনের পুতুল বা মূর্তি হারাম এবং শিরকের অন্তভূক্ত। তৃতীয়ত, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করা এটা হিন্দুদের ধর্মের অংশ। কারণ হিন্দু ধর্ম মতে, অশুভ শক্তির বিনাশ আর ধর্ম রক্ষায় যুগে যুগে দেবতাদের আবির্ভাব হয়েছে। তেমনি অসুর কূলের হাত থেকে দেবগণকে রক্ষায় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। পৃথিবীতে যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং পাপ বৃদ্ধি পায় তখনই দেবতারা শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। তেমনি অসুর শক্তির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। অসুরদের অত্যাচারে দেবতাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ব্রহ্মার বর পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল অসুররাজ মহিষাসুর। যুদ্ধে অসুর বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়ে সিংহাসন হারিয়েছিলেন দেবতা ইন্দ্র। স্বর্গে দেবতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সমস্যার সমাধানের জন্য ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা। কিন্তু মহিষাসুরকে রুদ্ধ করার কৌশল খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউই। কারণ ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনো পুরুষ বা দেবতারা মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না। সেই কারণেই অসুর নিধনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম হয় মহামায়ার। ইনিই দুর্গা। একজন দেবতা দুর্গাকে অস্ত্র দিলেন, অন্যজন দিলেন বাহন। এরপর যুদ্ধে দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন। (দৈনিক আমাদের সময় ১২-১০-২০১৫ইং) অর্থাৎ হিন্দুদের দেবতাদের শত্রু অসুর তথা অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে অসুরদের থেকে দেবতাদের রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। এই কারণেই হিন্দুরা দেবী দুর্গার পূজা করেন।এখন আপনি চিন্তা করুন, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করাকে আপনি কি বলবেন? এটা সুস্পষ্ট শিরক। ২। প্রয়োজনে মুখোশ ব্যবহার করা জায়েজ। যুদ্ধের ময়দানে মানুষের মুখোশ পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রাণীর সাথে সাদৃশ্য এমন কোন মুখোশ পরা যাবে না। উপরের হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট।সাহাবীগণ এমন শিংসহ মুখোশ পরেছেন বলে জানা যায় না। পহেলা বৈশাখ শত শত বছর ধরে পালন হয়ে আসছে কিন্তু বৈশাখী পূজা শুরু হয়েছে অল্প কিছু দিন।আরো জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা প্রবন্ধ পহেলা বৈশাখ। ইন্টারনেট থেকেও পড়া যাবে আবার খুতবাতুল ইসলাম বই থেকেও পড়া যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।