As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 28

প্রশ্ন

সললু কামা রয়াইতুমুনি উসলিল এখানে পুরুষ বা মহিলা আলাদা করা হয়নাই কোন জয়ীফ হাদীস দিয়েও পারথাক্য প্রমানিত নেই তাই দলিল সহ জানতে চাই যে মহিলাদের নামাজে কোন পারথাক্য আছে কি হাদীসে নামবার কিতাবের নাম রাবী সহ জানাবেন

উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য । حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا. অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।