As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 643

প্রশ্ন

আসসালামু ওয়ালাইকুম, প্রশ্ন: আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করি। একটা মেয়ের সাথে আমার ১৩ বছরের সম্পর্ক (দুর থেকে দেখা বা ফোনে কথা বলা)। মহান আল্লাহে পক্ষ থেকে আমাদের উভয়ের ভিতর দ্বীনের কিছু ইলম আসায় (আলহামদুলিল্লাহ) এখন জানি যে এ সম্পর্ক শরিয়াত সম্মত না বা হারাম, যদিও আমাদের ভিতরে কখনও কোন গোপন কার্যকলাপ হয় নি। আমরা দু জনেই যথা নিয়মিত নামায বা অন্যান্য ইবাদত করি (মুসলিম হিসাবে যা করা দরকার) আমাদের উভয়ের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। তাই এ পাপ থেকে তাওবা করে আমরা উভয়ে এখন বিয়ের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে বৈধ করতে ইচ্ছুক। মেয়ের বাব মা আমাকে ভালো হিসেবে চেনে ও জানে, কিন্ত আমার সাথে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না বরং তারা তাকে বিয়ের জন্য অন্য কোন ধনি বা সরকারি চাকুরীজীবী ছেলে ঠিক করেছে বা করছে। (অনেকের জানা মতে সে ছেলের চরিত্র ভালো না এবং দ্বীনদ্বার না, যদিও মেয়ে দ্বীনদ্বার এবং মেয়ে নিজেই ছেলের খারাবি সম্পর্কে জানে)। তাই আমরা কোন উপায় না পেয়ে মেয়ের একমাত্র ছোট ভাই (১৯) এবং পরিচিত এক ভাই-এ দুজনকে মেয়ের পক্ষে স্বাক্ষী (স্ব-ইচ্ছায়) রেখে আমারা কোর্টম্যারেজ করি, এখন আমাদের বিয়ে কি বৈধ হবে? অতপরঃ মেয়ের পিতা মাতা যদি মেনে নেয় তাহলে কি বৈধ হবে? যদি না নেয়, সেক্ষেত্র দুজনে একসাথে সংসার করতে চাইলে আমাদের কি করা উচিৎ? (আমি এই দ্বীনদ্বার মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে পাইতে ভিষন আগ্রহী!!) বিঃ দ্রঃ -নিচের লিংকে শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফীর লেখা পড়ে আমি উপরের সিদ্ধানত নিয়েছিলাম । মেয়ের পিতা মাতাকে রাজী করানোর জন্য কি করা যেতে পারে, একটু পরামর্শ দেওয়া যাবে কি? যখন তারা রাসূলের হাদীস মানছে না – রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ তোমাদের নিকট যদি এমন পাত্র বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী ও চরিত্র তোমাদের নিকট পছন্দসই, তবে তার সাথে তোমাদের কন্যাদের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তোমরা এরূপ না কর (দ্বীনদার ও চরিত্রবান পাত্রকে প্রত্যাখ্যান কর এবং তাদের সাথে কন্যাদের বিবাহ না দাও) তবে এর কারণে পৃথিবীতে অনেক বড় ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। (তিরমিযী) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। * তারা মেয়ের পছন্দ ও আমার দেওয়া প্রস্তাব কোনটাই মানছে না । * সুতরাং আমি আর কি করতে পারি, কি করে তাদের রাজি করাতে পারি, যদিও আমার কোন সমস্যা নেই, ঐ দ্বীনদার মেয়েকে পাওয়ার সকল যোগ্যতা আমার আছে । *যদি আবার বিয়ে করতে হয়, তাহলে আগের দেনমোহর কি ঠিক রাখতে হবে, না নতুন করে বাধতে হবে?

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. বেঁচে থাকাকালীন এমন একটি প্রশ্নের জবাবে যা লেখা হয়েছিল তা নিচে দেওয় হলো: অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪১ নং প্রশ্নের উত্তর।