As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 520

প্রশ্ন

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ । আমি অনেক আলেমের মুখ থেকেই শুনেছি বিয়ের পর ছেলের স্ত্রী কে দিয়ে ছেলের মা জোর পূর্বক কাজ করাতে পারবে না। যদি পুত্র বধু স্ব-ইচ্ছায় করে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু আমাদের সমাজের বাস্তবতা একবারেই বিপরীত। বাবা-মা রা ছেলে কে বিয়ে করানো উদ্দেশই থাকে, সংসারের কাজের বোঝা মেয়েটির গাঁড়ে চাপানোর জন্য। এক্ষেত্রে ছেলের কি ভূমিকা থাকা উচিত, যখন সে দেখে তার স্ত্রীর উপর ফজর এর পর থেকে রাত্রে গুমানোর আগ পর্যন্ত দাদীর কাজের আবদার, মার কাজের হুকুম, বাবার কাজের হুকুম, সংসারের রান্না বান্না, তার উপর ছোট বাচ্চার লালন পালন নিয়ে অই বেচারিকে সবাই বেতিবেস্ত করে রাখে। মা বাবা কে কিছু বললে উনারা positive অর্থে না নিয়ে উল্টা বুজে ছেলের উপর রাগ করেন, আবার ছেলের বউ কে ও সন্দেহ করে থাকেন। হজরতের কাছ থেকে এই বিষয়ে সু পরামর্শ আশা করছি। যাজাকাল্লহু খাইরন।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শ্বশুর-শাশুড়ীর সেবা করা বা কাজে সাহায্য করা পুত্রবধূর আইনত দায়িত্ব নয়, তবে নৈতিক দায়িত্ব।শ্বাশুড়ীর জন্য জায়েয নেই তার উপর কোন কাজ চাপিয়ে দেয়া। আপনি যে সমস্যার কথা বলেছেন তা আমাদের সমাজের জটিল সমস্যাসমূহের অন্যতম। এর প্রতিকারের জন্য শ্বশুর-শাশুড়ীকে কোনভাবে জানাতে এবং বুঝাতে হবে যে, শ্বশুর-শাশুড়ীর বা পরিবারের অন্য কারো সেবা করা মৌলিকভাবে পুত্রবধুর দায়িত্ব নয়, করলে সেটা অনুগ্রহ। বরং এ সেবা পুত্রের উপর বর্তায়। পুত্রের পক্ষ থেকে তার বধু যদি এ সেবা করে তাহলে সেটা তার অনুগ্রহ। শ্বশুর-শাশুড়ী যদি পুত্র-বধূর সেবাকে এর দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করে তাহলে পুত্র-বধুর প্রতি তারা প্রীত হবে এবং তার প্রতি তারা ন্যায্য আচরণ করবেন। ছেলে কোন অবস্থাতেই নিজের স্ত্রীর উপর যা তার দায়িত্ব নয়, তা চাপাতে পারবে না। ছেলের উচিত হলো তার পিতা-মাতাকে বিষয়টি বুঝানো। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার সাথের যেন খারাপ আচরণ না হয়ে যায় সেটাও খোয়াল রাখতে হবে। এই সমস্যা থেকে বেঁচে থাকার আরেকটি উপায় হলো পৃথক সংসার করা। কারণ যৌথ সংসার এই অশান্তির অন্যতম কারণ। এই বিষয়ে শায়খ আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, এই জামানায় একান্নভুক্ত থাকার কারণেই পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। কাজেই শুরুতেই ফ্যাসাদ লাগার আগেই পুত্র ও বধূকে পৃথক করে দেয়া সমীচীন। অন্যথায় যখন ফ্যাসাদ লাগবে তখন পৃথকও করে দিতে হবে আবার সু-সম্পকও নষ্ট হয়ে গেল। তুহফাতু জাওযাইন। ফিকহুন নিসা, মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন, পৃষ্ঠা, ৪৬০।