As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 5133

প্রশ্ন

আসসালামুআলাইকুম, শায়েখ এই দুটি হাদিস নিয়ে আমি বিভ্রান্তিতে আছি; হাদিস দুটিই কি সহিহ অথবা নিগূঢ কোন বিষয় থাকলে পরিস্কার করবেন কি? ১> নবী (সঃ) সকালে এসে জিজ্ঞেস করতেন, ঘরে কোন খাবার আছে কি না, যদি না থাকত, তবে তিনি বলতেন, আমি রোজা থাকলাম। ২> যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোজার নিয়ত করল না- তার রোজা পালন হবে না।https://fb.watch/5c2R3lwHV7/ প্রথম হাদিসের ঘটনায় নবী (সঃ) তো সকাল পর্যন্ত নিয়ত করেন নি; তাহলে এটির ব্যাখ্যা কি হবে? আবার, শায়খ আহমাদুল্লাহ এক ভিডিও তে বলেছেন, পাওনা টাকা আদায় করতে পারছি না, আদায় না করতে পেরে সেটিকে যাকাত হিসেবে দান ধরে নেয়া যাবে না। এখানে নিয়তের ব্যাপারটি তিনি উল্লেখ করেছেন। আবার ও তাহলে প্রশ্ন আসছে, নবী (সঃ) প্রথম হাদিসে তো খাবার না থাকায় রোজা রেখেছেন, তাকওয়ার ব্যাপার টা আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। এটি কি এখানে দেয়া যাকাতের উদাহরণের সাথে মিলে যাচ্ছে না! আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যকটির সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে অথবা, দুটোর একটি নবী (সঃ) করেন নি। দয়াকরে সুন্দর করে ব্যাখ্যা করবেন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং দ্বীন কে আমার জন্য বোঝা সহজ করে দিন।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামায, রোজা, যাকাত এই জাতীয় ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত আবশ্যক। রমজানের রোজা, রমজানের কাজা রোজা,মানতের রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত করতে হবে ফজরের পূর্বেই। عن حفصة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له হাফসাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোজার নিয়ত করবে না, তার রোজা হবে না। সুনানু তিরমিযি, হাদীস নং ৭৩০। হাদীসটি গ্রহনযোগ্য। আর সুন্নাত রোজার নিয়ত ফজরের পরও করা যায়। عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها قالت قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم يا عائشة هل عندكم شيء قالت فقلت يا رسول الله ما عندنا شيء قال فإني صائم আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে একদিন বললেন, আয়েশা! তোমাদের কাছে কি কোন খাবার আছে? আয়েশা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে কোন খাবার নেই। তখন তিনি বললেন, আমি রোজা রাখলাম। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৪ আর যাকাতের ক্ষেত্রে যাকাতের দেয়ার সময় অথবা যাকাতের সম্পদ আলাদা করার সময় নিয়ত করতে হয়। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, মানুষ যা কিছুর নিয়ত করবে তার প্রতিদান তার জন্য হবে। সহীহ বুখরী। ফকীগণ বলেছেন, যাকাত দেয়ার পর নিয়ত করা গ্রহনযোগ্য নয়। সুতরাং পাওনা টাকা যাকাত হিসেবে গণ্য করার কোন সুযোগ নেই। আর তাকওয়া তো হৃদয়ের বিষয়। তাকওয়ার বিষয়ে আল্লাহ জানেন। রাতের বেলায় সুন্নাত রোজার নিয়ত করলেই তাকওয়া হবে, দিনের বেলায় তাকওয়া থাকবে না, বিষয়টি এমন নয়। রাতে নিয়ত করেও তাকওয়া নাও থাকতে পারে। আর রাসূলুল্লাহ সা. এর কাজই আমাদের জন্য তাকওয়ার উদাহরণ। তিনি যেটা করেছেন, সেটাই আমাদের দলীল, আমাদের অনুকরণীয়। সুতরাং ইবাদতগুলোকে সেুগলোর স্থানে রেখে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক পালন করতে হবে। একটিকে আরেকটির সাথে মিলানোর দরকার নেই।