As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 5060

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।আমাদের দেশে বেশিরভাগ হানাফি মাযহাব প্রচলিত। এখন আমি কিছু ক্ষেত্রে হানাফি আর কিছু ক্ষেত্রে অন্য মাযহাব এর মত গ্রহন করলে কি গুনাহ হবে? যেমন হানাফি মাযহাব এ মেয়েদের হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলওয়াত নিষিদ্ধ।কিন্তু অন্য মাযহাব এ জায়েজ। তাহলে আমি যদি এইখানে অন্য মাযহাব মানি তাহলে কি অসুবিধা আছে? আর আমি আবদুল্লাহ জাহাংগির স্যার,আহমাদুল্লাহ শায়েখ এর লেকচার শুনি। তারা ইখতেলাফি বিষয়ে অন্যান্য মত উল্লেখ করে তারপর সিদ্ধান্ত দেন বিষয় টা খুবই ভালো লাগে আমার। কিন্তু দেখা যায়, হানাফি মাযহাব বেশি প্রচলিত হওয়ার কারনে অনেক আলেম বা আলেমারা একটা মতকেই শুদ্ধ বলেন। অন্য মত জানান না। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিজের মত কেই অধিক উত্তম বলেন। আমি সাধারণ মানুষ, কনফিউজড হয়ে যাই। আমার করনীয় সম্পর্কে একটু জানাবেন।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাধারণ মানুষের জন্য যে কোন একটি মাজহাব অনুস্বরণ করাই কল্যানকর, যাতে কনফিউজড না হয়ে যান। কোন নির্দিষ্ট মাসআলাতে অন্য মাজহাবের দলীল অধিকতর শক্তিশালী হলে সেটা মানতে সমস্যা নেই। তবে মেয়েদের হায়েজ অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াতের বিষয়ে অধিকাংশ আলেমের মত হলো এই অবস্থায় কুরআন পড়তে পারবে না। শুধু হানাফী মাজহাব নয়, প্রচলিত সকল মাজহাবেই এই অবস্থায় কুরআন পড়া নিষিদ্ধ।তবে তরজামা পড়তে এবং হাদীস পড়তে বা ধরতে কোন সমস্যা নেই। এই বিষয়ে ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, وهو قول أكثر أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم مثل سفيان [ الثوري ] و ابن المبارك و الشافعي و أحمد و إسحق قالوا لا تقرأ الحائض [ ولا ] الجنب من القرآن شيئا وإلا طرف الآية والحرف ونحو ذلك ورخصوا للجنب والحائض في التسبيح والتهليل অধিকাংশ সাহাবী, তাবেই এবং পরবর্তী অধিকাংশ আলেম যাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান সাউরী, ইবনুল মুবারক, শাফেয়ী, আহমাদ,ইসহাক রা., তাদের মত হলো ঋতুস্রাবী মহিলা এবং গোসল ফরজ এমন ব্যক্তি কুরআন পড়তে পারবে না। তবে আয়াতের কোন অংশ বা হরফ পড়তে পারবে। তবে তাসীবহ তাহলীল এর উদ্দেশ্যে কুরআনের কোন আয়াত পড়তে পারবে। সুনানু তিরমিযী হাদীস নং ১৩১ এর আলোচনা। কোন কোন আলেম বলেছেন, ঋতুস্রাব চলাকালীন কুরআন পড়তে পারবে। আর বিষয়ে বর্ণিত একমাত্র হাদীসটি সনদগতভাব দূর্বল, যেখানেঋতুস্রাবী মহিলা এবং গোসল ফরজ এমন ব্যক্তি কুরআন পড়তে পারবে না বলা হয়েছে। তবে যেহেতু অধিকাংশ আলেম পড়তে নিষেধ করেছেন তাই এই অবস্থায় কুরআন না পড়ার মধ্যেই অধিক সতর্কতা।