As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 1611

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম……মওলানা আকরাম খাঁ (রহঃ) তার লেখা তাফসীরুল কুরআনে আবু হুরায়রা (রাঃ) বয়স নিয়ে যে আলোচনা করেছেন তা কতটুকু নির্ভর যোগ্য?

Screenshot Upload করার কোন option পেলাম না । তাই দয়া করে নিচের লিংকের বইটির ৪০৫ – ৪০৭ পৃষ্ঠা একটু দেখুন- http://www.pathagar.com/book/detail/1664

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।ইমাম ইবনে কুতাইবার বক্তব্য দিয়ে তিনি মূলত বুঝাতে চেয়েছেন যে, আবু হুরায়রা যেহেতু রাসূলের থেকে হাদীস শুনে নি তাই তার হাদীস গ্রহনযেগ্য নয়। একটা একদম ভুল কথা। সাহাবী যদি কোন কথা রাসূলের থেকে না শুনে রাসূলের দিকে সম্পৃক্ত করে বলে তাকে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় মুরসালুস সাহাবী বলে। আর মুরসালুস সাহবী দলীলযোগ্য এবংমানের দিক দিয়ে মুত্তাসিল ( রাসূল সা. থেকে সরাসরি শোনা হাদীসকে মুত্তাসিল বলা হয় হয়) হাদীসের মত। এই প্রসঙ্গে আল্লামা সাখাবী রহ. বলেন,

مرسل الصحابي ] ( أما ) الخبر ( الذي أرسله الصحابي ) الصغير عن النبي – صلى الله عليه وسلم – ; <a href=\”\\\”>كابن عباس </a>، وابن الزبير ، ونحوهما ممن لم يحفظ عن النبي – صلى الله عليه وسلم – إلا اليسير ، وكذا الصحابي الكبير فيما ثبت عنه أنه لم يسمعه إلا بواسطة ( فحكمه الوصل ) المقتضي للاحتجاج به ; لأن غالب رواية الصغار منهم عن الصحابة ، وروايتهم عن غيرهم মুরসালুস সাহবী অর্থাৎ যে হাদীস কোন ছোট সাহাবী নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন, যারা নবী সা. থেকে খুব কম হাদীসই শুনেছেন, যেমন ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, এভাবে কোন বড় সাহাবী থেকে যখন নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি কোন মাধ্যমে রাসূলের থেকে হাদীসটি শুনেছেন তার হুকুম (এমন মুরসালের হুকম) মুত্তাসিলের মতই। এবং তা দলীলযোগ্য। কেননা ছোট সাহাবীদের অধিকাংশ বর্ণনা (বড়) সাহাবীদের থেকে। আর (বড়) সাহাবীদের বর্ণনা একে অন্যের থেকে। আল-ফাতহুল মুগীস বি শরহি আল-ফিয়াতুল হাদীস লিল ইরাকী। মুরসালের আলোচনা। ইমাম সারখসী রাহ. বলেন,

وَلَا خلاف بَين الْعلمَاء فِي مَرَاسِيل الصَّحَابَة رَضِي الله عَنْهُم أَنَّهَا حجَّة ؛ لأَنهم صحبوا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَمَا يَرْوُونَهُ عَن رَسُول الله عَلَيْهِ السَّلَام مُطلقًا يحمل على أَنهم سَمِعُوهُ مِنْهُ أَو من أمثالهم ، وهم كَانُوا أهل الصدْق وَالْعَدَالَة সাহাবীদের মুরসাল যে দলীলযোগ্য এ ব্যাপারে আলেমদের মাঝে কোন মতবিরোধ নেই। কেননা তারা রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহচার্যে ছিলেন। তাই তারা যা বর্ণনা করে সেগুলো হয়তো তারা তাঁর (রাসূল সা.) থেকে শুনেছেন কিংবা তাদেরমত অন্য সাহাবীদের থেকে শুনেছেন। আর তারা সকলেই সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ। উসূলুস সারখসী, ১/ ৩৫৯

আল্লামা ইবনুল কয়্যুম রহ. বলেন,

اِتَّفَقَتْ الْأُمَّة عَلَى قَبُول رِوَايَة اِبْن عَبَّاس وَنُظَرَائِهِ مِنْ الصَّحَابَة, مَعَ أَنَّ عَامَّتهَا مُرْسَلَة عَنْ النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, وَلَمْ يُنَازِع فِي ذَلِكَ اِثْنَانِ مِنْ السَّلَف وَأَهْل الْحَدِيث وَالْفُقَهَاء . উম্মত ইবনে আব্বাস এবং এমন বয়সী সাহাবীদের হাদীসে গ্রহনের ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছে। ইহা সত্ত্বেও যে, তাদের অধিকাংশ হাদীস নবী সা. থেকে মুরসাল। সালাফ, হাদীসবিশারদগণ এবং ফকহীদের এমন দুজনও পাওয়া যাবে যারা এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষন করেছেন। তাহযীবে সুনানু আবু দাউদ, ১/১৭৭। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ১৮৬০৫৫। আরবী, ইন্টারনেট। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝলাম যে, ইবেনে কুতাইবা এবং তার সূত্রধরে আকরাম খাঁ রাহ. যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ভুল কথা। তারা হয়তো না জেনেই এমনটি করেছেন। আল্লাহ তাদের এবং আমাদের ক্ষমা করে দিন। আর আবু বকর, উমর রা, তার হাদীস মিথ্য মনে করতেন এটাও ভুল কথা। যদি আবু হুরায়রা রা. এর হাদীস মিথ্যা হয় তাহলে হাদীসশাস্ত্রই তো টিকবে না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।