As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 105

প্রশ্ন

hanafi madhab er witr salat er niyom ki correct?

উত্তর

হ্যাঁ, হানাফী মাজাহাবের বিতর সালাতের নিয়ম সঠিক। রাসূলুল্লাহ সা. বিত্র সালাত বিভিন্ন পদ্ধতিতে আদায় করেছেন বলে সহীহ হাদীসে প্রমাণিত। হানাফী মাযহাবে যে পদ্ধতিতে বিতর পড়া হয় সেটি উক্ত সহীহ পদ্ধতিগুলোর একটি। তা হলো দু রাকআতের শেষে বসে আত-তাহিয়্যাতু পাঠ করে উঠে দাড়িয়ে তৃতীয় রাকআত আদায় করা। আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. আল মুহল্লা (২/৮২) বলেছেন, والوتر وتهجد الليل ينقسم على ثلاثة عشر وجها، أيها أفعل أجزأه বিতর ও রাতের তাহাজ্জুদ ১৩ টি পদ্ধতি রয়েছে। যে কোন এক পদ্ধতিতে পড়লেই যথেষ্ট হবে। এরপর তিনি দলীল সহ ১৩ পদ্ধতিই উল্লেখ করেছেন। ১২ নং পদ্ধতি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, والثاني عشر: أن يصلي ثلاث ركعات، يجلس في الثانية، ثم يقوم دون تسليم و يأتي بالثالثة، ثم يجلس ويتشهد ويسلم، كصلاة المغرب. وهو اختيار أبي حنيفة ১২নং তিন রাকআত নামায পড়বে, দ্বিতীয় রাকআতে বসবে, এরপর সালাম না ফিরিয়ে উঠবে এবং তৃতীয় রাকআত পড়বে। তারপর বসে তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরাবে মাগরিবের নামাযের মত। আর এটা আবু হানীফা পছন্দ করেছেন। এরপর তিনি এই মতের পক্ষে নিচের হাদীস দ্বারা দলীল দিয়েছেন। عن سعد بن هشام أن عائشة حدثته : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان لا يسلم في ركعتي الوتر অর্থ: আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বিত্রের দুই রাকআতে সালাম ফিরাতেন না। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৬৯৮। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ১১৩৯। ইমাম জাহবী এবং হাকিম রহ. বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। অনেক সাহবী রা. থেকে এমন কথা বর্ণিত আছে। ইবনে উমার রা. থেকে এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, صلاة المغرب وتر النهار فأوتروا صلاة الليل মাগরিব হলো দিনের বিত্র, তোমরা রাতের বিত্র আদায় করো। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪৮৪৭। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ। এখানে রাসূলুল্লাহ সা. মাগরিবের নামযকে বিতরের নামাযের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন, الْوِتْرُ ثَلاَثٌ رَكَعَاتٍ كَصَلاَةِ الْمَغْرِبِ বিত্র মাগরিবের মত তিন রাকআত। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৬৮৮৯। বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ। অন্য সনদেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবন নাসর আল-মারওয়াযী (২৯৪) লিখিত কিতাব সালাতিল বিতর গ্রন্থে অনেক সাহাবী এবং তাবিয়ী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তারা মাগরিবের মত তিন রাকআত বিতর আদায় করতেন। (পৃষ্ঠা ২৯৪) একটি হাদীসে মাগরিবের মত তিন রাকাআত বিতর পড়তে নিষেধ করা হয়েছে এবং ৫ বা ৭ রাকআত বিতর পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ হাদীসটি দ্বারা অনেকে প্রমাণ করেন যে, দ্বিতীয় রাকআতে বৈঠক করে তিন রাকআত বিতর পড়া সঠিক নয়। হাদীসটি নিম্নরূপ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ تُوتِرُوا بِثَلاَثٍ أَوْتِرُوا بِخَمْسٍ أَوْ سَبْعٍ ، وَلاَ تُشَبِّهُوا بِصَلاَةِ الْمَغْرِبِ আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তিন রাকআত বিতর পড়ো না, পাঁচ বা সাত রাকআত পড়ো। মাগরিবের নামাযের সাথে সাদৃশ্য করো না। সুনানে দারে কুতনী, হাদীস নং ১৬৫০। ইমাম দারে কুতনী বলেছেন, হাদীসটির রাবীগণ ছিকাহ। এখানে লক্ষনীয় যে, মাগরিবের মত বিতর না পড়ার এ হাদীসটিতে এবং এ অর্থের অন্যান্য হাদীসে পদ্ধতিগত পার্থক্যের কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, বরং রাকআতের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুস্পষ্টত বলা হয়েছে, সালাতুল বিত্র মাগরিবের মত তিন রাকআত না পড়ে পাঁচ বা সাত রাকআত পড়। অর্থাৎ তিন রাকআত পড়লেই তা মাগরিবের মত হয়ে গেল, যে পদ্ধতিতেই তা পড়া হোক না কেন। এখন যদি কেউ ধারণা করেন, দ্বিতীয় রাকাতে না বসে তিন রাকআত বিতর পড়ে তিনি এ হাদীসটির উপর আমল করলেন তবে তার এ ধারণাকে সঠিক বলা কষ্টকর। এ হাদীসটির বাহ্যিক নির্দেশনা থেকে আমরা এতটুকুই প্রমাণ করতে পারি যে, তিন রাকআত বিতর পড়া বৈধ নয়, বরং ৫ বা ৭ রাকআত পড়তে হবে। তবে এর বিপরীতে অনেক সহীহ হাদীসে তিন রাকআত বিতর পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও তিন রাকআত বিতর পড়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। এ সকল হাদীসের আলোকে উপরের নিষেধার্থক হাদীসটির অর্থ হলো, শুধু তিন রাকআত বিতর পড়া বৈধ,তবে ৫ বা ৭ রাকতআত পড়া উত্তম। এ অর্থে আয়েশা (রা) বলেন, لاَ تُوتَرُ بِثَلاَثٍ بُتْرٍ ، صَلِّ قَبْلَهَا رَكْعَتَيْنِ ، أَوْ أَرْبَعًا তুমি শুধু তিন রাকআত বিতর পড়বে না, তুমি তিন রাকআতের পূর্বে দু রাকআত বা চার রাকআত (কিয়ামুল্লাইল সালাত) পড়বে। মুসান্নফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৬৮৯৮। হাদীসটির সনদ সহীহ বলে প্রতীয়মান। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, হানাফী মাজাহাবের বিত্র নামায সুন্নাহ সম্মত। মুমিনগণের উচিৎ পদ্ধতিবিষয়ক বিতর্কে লিপ্ত না হওয়া। যে পদ্ধতি আপনার নিকট অধিক গ্রহনযোগ্য সে পদ্ধতিতে বিতর আদায় করুন এবং হাদীসে প্রমাণিত অন্যান্য পদ্ধতিকে সম্মান করুন। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত ৪১৩-৪১৭।