As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 2211

ঈমান

প্রকাশকাল: 18 Feb 2012

প্রশ্ন

আস্সালামুআলাইকুম। আমি একটি ওয়াজে শুনেছি সুন্নি জামাতের একজন বক্তা নুরুল ইসলাম ফারুকী চট্রগ্রামের একটি মাহফিলে বলেছেন রাসূল (স) তাদের মাঝে সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের আরো বক্তারা বলেন রাসূল (স) রওজা পাক থেকে পৃথিবী আসমান জমি সব দেখতে পান। ওনার উম্মতের বর্তমানে কি করছেন তাও তিনি দেখতে পান। প্রমাণ স্বরূপ তারা মিশকাত শরীফের ৫১২ নম্বর হাদিস পেশ করে এই হাদিসে বলা হয়েছে আল্লাহ পাক রাসূল (স) জন্য পূর্ব পশ্চিম সংকীর্ণ করে দিয়েছেন। আরেকটি কথা হল তারা বলেন রাসূল (স) টানা ৪০ দিন কোনো কিছু না খেয়ে থাকতেন। এই ব্যাপারে ইসলাম কি বলে দলিল সহকারে পেশ করলে খুশি হতাম।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অনেকগুলো হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা.র উপর দরুদ বা সালাত পাঠ করলে তা রাসূলুল্লাহ সা,-এর কাছে পৌঁছান হবে। আউস বিন আউস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلام وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاةِ فَإِنَّ صَلاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ أَيْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন শুক্রবার। এদিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এদিনেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, এদিনেই সিংগা ফুক দেওয়া হবে, এদিনেই কিয়ামত হবে। কাজেই এ দিনে তোমরা আমার উপর বেশি করে সালাত পাঠ করবে, কারণ তোমাদের সালাত আমার কাছে পেশ করা হবে। সাহাবীগণ বলেন : হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো (কবরের মাটিতে) বিলুপ্ত হয়ে যাবেন, মিশে যাবেন, কিভাবে তখন আমাদের সালাত আপনার নিকট পেশ করা হবে? তিনি বলেন : মহান আল্লাহ মাটির জন্য নিষিদ্ধ করেছেন নবীদের দেহ ভক্ষণ করা। সুনানু নাসায়ী হাদীস নং ১৩৭১।হাদীসটির সনদ সহীহ। অন্য একটি হাদীসে আবু হুরাইরা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ نَائِياً أُبْلِغْتُهُ (أُعْلِمْتُهُ) কেউ আমার কবরের নিকট থেকে আমার উপর সালাত বললে আমি শুনতে পাই। আর যদি কেউ দূর থেকে আমার উপর সালাত বলে তবে আমাকে তা জানান হয়। ইমাম হুসাইন (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: حَيْثُما كُنْتُمْ فَصَلُّوا عَلَيَّ فإنَّ صلاتَكُمْ تَبْلُغُنِي তোমরা যেখানেই থাকনা কেন আমার উপর সালাত পাঠ কর, কারণ তোমাদের সালাত আমার কাছে পৌঁছান হবে। মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৪৯৬। হাদীসটির সনদ হাসান। অন্য হাদীসে আবু হুরাইরার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: لا تَتَّخِذُوا قَبْرِي عِيدًا وَلا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِي তোমরা আমার কবরকে ঈদ বানাবে না এবং তোমাদের বাড়িগুলোকে কবর বানাবে না, যেখানেই থাকনা কেন আমার উপর সালাত পাঠ করবে; কারণ তোমাদের সালাত আমার কাছে পৌঁছে যাবে। মুসনাদু আহমাদ,হাদীস নং ৮৭৯০। হাদীসটি হাসান। আম্মর বিন ইয়াসির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: إِنَّ اللَّهَ وَكَّلَ بِقَبْرِي مَلَكًا أَعْطَاهُ أَسْمَاعَ الْخَلاَئِقِ فَلاَ يُصَلِّي عَلَيَّ أَحَدٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ أَبْلَغَنِي بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ هَذَا فُلاَنُ بْنُ فُلاَنٍ قَدْ صَلَّى عَلَيْكَ মহান আল্লাহ আমার কবরে একজন ফিরিশতা নিয়োগ করছেন, যাকে সকল সৃষ্টির শ্রবণশক্তি প্রদান করা হয়েছে, কিয়ামত পর্যন্ত যখনই কোনো ব্যক্তি আমার উপর সালাত পাঠ করবে তখনই সে ফিরিশতা আমাকে সালাত পাঠকারীর নাম ও তাঁর পিতার নাম উল্লেখ করে আমাকে তাঁর সালাত পৌঁছে দিয়ে বলবে: অমুকের ছেলে অমুক আপনার উপর সালাত প্রেরণ করেছে। হাদীসটির সনদে দুর্বলতা আছে। তবে এ অর্থে আরো কয়েকটি দুর্বল সনদের হাদীস আল্লামা সাখাবী তাঁর সালাত বিষয়ক বই আল-ক্বাওলুল বাদীয় গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যে সকল হাদীস থেকে বুঝা যায় সালাত পাঠকারীর সালাত যখন রাসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে পেশ করা হয় তখন সালাত পাঠকারীর নাম ও পিতার নামসহ তার পরিচয় তাঁর দরবারে পেশ করা হয়। একই বিষয়ে কয়েকটি দুর্বল বা যয়ীফ হাদীস বর্ণিত হলে বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে, যাকে মুহাদ্দিসগণ হাসান লিগাইরিহী বলেন। এ হাদীসটিও এভাবে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য। ( উপরের বর্ণনাটুকু রাহে বেলায়াত থেকে সংক্ষিপ্ত করে নেয়া। ) এবার বলেন, যদি রাসূলুল্লাহ সা. উপস্থিত থাকবেন তাহলে তাঁর কাছে পৌছানোর দরকার কী? কোন হাদীসে নেই যে, তিনি কবরের বাইরে কোথাও উপস্থিত হতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সা. অনেক সময় না খেয়ে থাকতে পারতেন যেটা অন্যান্য মানুষের জন্য কষ্টকর। এটা হাদীস থেকে জানা যায়। তাই বলে ৪০দিন না খেয়ে ছিলেন এটা কোথায় আছে আমাদের জানা নেই। তারা যা বলে অর্থাৎ বিদাতীদের কথা অনেকাংশই জাল বানোয়াট বা গাল গল্প। এদের থেকে সাবধান।