As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 11

প্রশ্ন

কোন ধরণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে মুছাফির হওয়া যায় । এবং দুরুত্ব কতটুকু?

উত্তর

প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। কোন ব্যক্তি যদি ১৫ দিনের কমসময় অবস্থানের নিয়তে কমপক্ষে ৪৮ মাইল(যা কিলোমিটার হিসাবে প্রায় সাড়ে ৭৭ কিলোমিটার) দূরুত্বে গমন করার ইচ্ছাকরে, তাহলে শহরবাসী নিজ শহরের সীমা ও গ্রামবাসী নিজ ইউনিয়ন বা পৌরসভার সীমা অতিক্রম করার পর থেকে মুসাফির বলে গন্য হবে। তখন থেকেই নামাজের কসর সহ মুসাফিরের অন্যান্য হুকুম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। (শামী-২/৫৯৯-৬০২, হিন্দিয়া-১/১৩৭, আহসানুল ফাতাওয়া-৪/৯৪-৯৫) সফরের দূরুত্ব বিষয়ে আলেমদের মাছে কিছুটা মতভেদ আছে তবে গ্রহনযগ্য মতানুসারে ৪৮ মাইল বা সাড়ে ৭৭ কিলোমিটার। এবিষয়ক অধিকাংশ রেওয়ায়েতগুলোতে সফরের দূরুত্বসীমা প্রসঙ্গে আরবাআতু বুরুদ শব্দ (চার বুরদ)এসেছে। আর ৪ বারিদ হল, ৪৮ মাইল যা, কিলোমিটার হিসাবে প্রায় সাড়ে ৭৭ কিলোমিটার। ইমাম মালিক রহঃ থেকে বর্ণীত – بلغه أن عبد الله بن عباس :كان يقصر الصلاة في مثل ما بين مكة والطائف وفي مثل ما بين مكة وعسفان وفي مثل ما بين مكة وجدة قال مالك وذلك أربعة برد وذلك أحب ما تقصر إلى فيه الصلاة قال مالك لا يقصر الذي يريد السفر الصلاة حتى يخرج من بيوت القرية ولا يتم حتى يدخل أول بيوت القرية أو يقارب ذلك موطأ مالك ما يجب فيه قصر الصلاة আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ সম্পর্কে জেনেছি যে, তিনি মক্কা ও তায়েফ, মক্কা ও আসফান, এবং মক্কা ও জিদ্দার সফরে নামাজ কসর করতেন। ইমাম মালেক রহঃ বলেন: এ দূরুত্ব হচ্ছে চার বারীদ। আমার মতে এটাই হচ্ছে কসরের দূরুত্ব। তিনি আরো বলেন: নিজ এলাকার বসতি থেকে বের হওয়ার পর কসর আরম্ভ করবে এবং পুনরায় বসতিতে ফিরে আসার পর পূর্ণ নামাজ পড়বে। ইমাম মালেক, মুয়াত্তা,বাব,মা ইযাজীবু ফীহি ক্বসরুস সালাত। উল্লেখ্য, মক্কা থেকে জিদ্দার দূরুত্ব হল ৭২ কিলোমিটার । মক্কা থেকে তায়েফের দূরুত্ব হল ৮৮ কিলোমিটার এবং মক্কা থেকে আসফানের দূরুত্ব হল ৮০ কিলোমিটার । বুখারীতে এসেছে- وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ، وَابْنُ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، يَقْصُرَانِ وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهْيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا. َ. باب فِي كَمْ يَقْصُرُ الصَّلاَة অর্থঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ চার বারীদ দূরুত্বের সফরে নামাজ কসর করতেন এবং রোযা না রাখার অবকাশ গ্রহন করতেন। চার বারীদ হল ষোল ফারসাখ। বাব, ফী কাম ইউকসারুস সালাত। তিন মাইল সমান এক ফরসাখ। তাহলে ১৬ ফরসখ = ৪৮ মাইল। অন্য এক বর্ননায় এসেছে: عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ أنقصر ا لصلاة إلَى عَرَفَةَ قَالَ لَا وَلَكِنْ إلَى عُسْفَانَ وَإِلَى جُدَّةَ وَإِلَى الطَّائِفِ2 وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ التلخيص الحبير في تخريج أحاديث الرافعي الكبير আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হল, আরাফার উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করলে কি পথিমধ্যে কি নামাজ কসর করতে যাবে? তিনি উত্তরে বললেন না। তবে আসফান, জিদ্দা ইত্যাদি স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করলে নামাজ কসর করা যাবে। কিতাব,সালাতুল মুসাফীরনি। ইবনে হাজার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তালখীসুর হাবীর, ২/৪৬। আল্লাহ আমাদেরকে সব আমল জেনে বুঝে করার তাওফীক দান করুন। আমীন।