আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 259

নামায

প্রকাশকাল: 15 অক্টো. 2006

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ! সালাতের ঐক্য নামের একটা ভিডিও তে দেখলাম আপনি বলছেন রাসুল স: এর পিছনে কিরাত পরার পর জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা কি কিরাত পড়ছ? সাহাবারা বলল হা তখন রাসুল স: বললেন তোমরা এখন থেকে আর পরবেনা। হাদিস তো এখানেই শেষ না পরের কথা টুকু কেন বললেন না। সেটাই তো আসল কথা। তোমরা কিরাত পরবেনা ফাতেহা ছাড়া।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। না, ভাই। হাদীসের কোন অংশ বাদ দিয়ে বলা হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থে কয়েকটি হাদীস রয়েছে। আমরা একটি হাদীসের মর্মার্থ বা সার সংক্ষেপ বলেছিলাম আর এবং আপনি অন্য হাদীস ভেবেছেন। উক্ত ভিডিওতে নিম্নের দুটি হাদীসের র্মর্ম সংক্ষেপে বলা হয়েছিল: عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। শায়খ আলবানী রহ. নামাযে সূরা ফাতিহার পড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এভাবে: ( انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة ( وفي رواية : أنها صلاة الصبح ) فقال : ( هل قرأ معي منكم أحد آنفا ) فقال رجل : نعم أنا يا رسول الله فقال : إني أقول : ( ما لي أنازع ) . [ قال أبو هريرة : ] فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم – فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة – حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم [ وقرؤوا في أنفسهم سرا فيما لا يجهر فيه الإمام ] ) একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে ( কোন কোন বর্ণনায় ফজরের নামায) রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? (আবু হুরায়রা বলেন,) এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। (এর যে সব নামাযে ইমাম স্বশব্দে কুরআন পড়েন না সেই নামাযে তারা মনে মনে কুরআন পড়তেন। এরপর তিনি আরো বলেন, ,وله شاهد من حديث عمر وفي آخرة ما لى أنازع القرآن ؟ !أما يكفى أحدكم قراءة إمامه ؟ إنما جعل الإمام ليؤتم به, فإذا قرأ فأنصتوا رواه البيهقى فى كتاب وجوب القراءة فى الصلاة كما فى الجامع الكبير للسيوطى (৩/৩৩৪/২. এই হাদীসটির অর্থকে সমর্থন কারী (শাহেদ) আরো একটি হাদীস আছে যা উমার রা. থেকে বর্ণিত। সেই হাদীসটির শেষে আছে কেন আমার সাথে ঝগড়া করা হচ্ছে? তোমাদের কারো কারো জন্য কি তার ইমামের কুরআন পাঠ যথেষ্ঠ নয়? নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুস্মরণের জন্য সুতরাং তিনি যখন পড়বেন তখন তোমরা চুপ থাকবে। হাদীসটি ইমাম বাইহাক্কী বর্ণনা করেছেন কিতাবু উযুহিল কিরআত ফি আস-সালাত গ্রন্থে। এই কথা উল্লেখ আছে ইমাম সূয়ুতিরি আলজামিউল কাবীর কিতাবে। (সিফাতুস সালাত ৭১ পৃষ্ঠা। মুদ্রণ -১৯৮৭ ইংরেজী) একই ধরণের নির্দেশ নিচের হাদীসটিতেও দেয়া হয়েছে। عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلَّى الظُّهْرَ فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ أَوْ أَيُّكُمُ الْقَارِئُ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ قَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, বাসূল সা. যুহরের নামায পড়ছিলেন,তখন এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে সাব্বিহ-সমা রব্বিকা… এই সূরা পড়তে শুরু করল, যখন রাসূল সা. নামায শেষে পিছনে ফিরলেন তখন বললেন তোমাদের মধ্যথেকে কে পড়ল কিংবা তোমাদের মধ্যে পাঠকারী কে? একজন লোক বললেন আমি। রাসূল সা. বললেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কে আমাবে কষ্ট দিেেচ্ছ। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩৯৮। এই হাদীসটিতেও পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। এগুলোর বিপরীতে কোনো কোনো হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থে দুটি হাদীস বিদ্যমান। প্রথম হাদীসটি অজ্ঞাত নামা একজন সাহাবী থেকে এবং দ্বিতীয়টি উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে। প্রথম হাদীসটি সহীহ এবং দ্বিতীয় হাদীসটি দুর্বল। প্রথম হাদীসটি নিম্নরুপ: عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। দ্বিতীয় হাদীস: عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূল সা. এর পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। রাসূল সা.সূরা পড়ছিলেন কিন্তু পড়া তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। নামায শেষে তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পিছনে পড়ছিলে। আমরা বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, কেননা যে তা না পড়বে তার নামায হবে না। আবু দাউদ: হাদীস নং৮২৩, তিরমিযী: হাদীস নং৩১১। বিভিন্ন কারণে হাদীসটি দূর্বল। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১. এই হাদীসের সনদে মাকহল নামে একজন মুদাল্লীস রাবী আছেন,যিনি এখানের মুয়ানয়ান বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লীস রাবীর মুয়ানয়ান বর্ণিত হাদীস দলীল যোগ্য নয়। ২. তিনি একেক সময় একেক জন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি বর্ণনার পর হাসান বলেছেন কিন্তু মহাদ্দিসগনের তাহকীক মুতাবেক হাদীসটি যয়ীফ । আলবানী রহ. যয়ীফ বলেছেন। তাহকীক সহ বিস্তারিত জানার দেখুন যয়ীফ আবু দাউদ ১/৩১৭। উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।