আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 7009

শিরক-বিদআত

প্রকাশকাল: 9 জুলাই 2024

প্রশ্ন

অনেক আলেমগণ বলেন, জান বাঁচানোর জন্য শিরক ও কুফরি করা যায় কিন্তুু হাদিস শরিফে আছে তোমাকে যদি হত্যা করা হয় তরপরে ও তুমি শিরক করিও না। এখন কোনদয়া করে প্রেরকঃডাঃমোহাম্মদ শওকত হোসেন পারভেজ
ঠিকানাঃকর্ণফুলী, চট্টগ্রাম।

উত্তর

যদি কোন মুসলিমের  অবস্থা এমন হয় যে, কুফরী বা শিরকী কথা না বললে তাকে হত্যা করতে পারে বা অঙ্গহানী করতে পারে বা অসহনীয় নির্যাতন কিংবা দীর্ঘদিন আটক রাখতে পারে তাহলে তার জন্য কুফরী কথা বলা জায়েজ আছে। তবে হৃদয়ের ঈমান যেন ঠিক থাকে। তবে উত্তম হলো জীবন চলে গেলেও কুফরী কথা না বলা। আল্লাহ তা’আলা বলেন, مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ  “যাকে (কুফরি করতে) বাধ্য করা হয়, অথচ তার অন্তর ঈমানের উপর অটল থাকে, সে ব্যতীত যে কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহর সঙ্গে কুফরি করবে এবং কুফরির জন্য মন উম্মুক্ত করে দিবে, তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্যে রয়েছে মহা শাস্তি।” সূরা নাহল, আয়াত ১০৬) এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, বাধ্য হলে হৃদয়ে ইমান থাকা অবস্থায় মুখে কুফরী কথা বলা জায়েজ। তাফসীরে তবারী, ১৭/৩০৫। নীচের হাদীসগুলো দ্বারা বুঝা যায় যে, যে কোন অবস্থায় ঈমান বিরোধী কথা না বলা উত্তম। রাসূল সা. বলেছেন, فَقَالَ قَدْ كَانَ مَنْ قَبْلَكُمْ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ فَيُحْفَرُ لَهُ في الأرضِ فَيُجْعَلُ فِيهَا ثُمَّ يُؤْتَى بِالمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأسِهِ فَيُجْعَلُ نصفَينِ وَيُمْشَطُ بأمْشَاطِ الحَديدِ مَا دُونَ لَحْمِه وَعَظْمِهِ مَا يَصُدُّهُ ذلِكَ عَنْ دِينِهِ তোমাদের পূর্বেকার (মু’মিন) লোকেদের এই অবস্থা ছিল যে, একটি মানুষকে ধরে আনা হত, তার জন্য গর্ত খুঁড়ে তাকে তার মধ্যে (পুঁতে) রাখা হত। অতঃপর তার মাথার উপর করাত চালিয়ে তাকে দু’খণ্ড করে দেওয়া হত এবং দেহের মাংসের নিচে হাড় পর্যন্ত লোহার চিরুনী চালিয়ে শাস্তি দেওয়া হত। কিন্তু এই (কঠোর পরীক্ষা) তাকে তার দ্বীন থেকে ফেরাতে পারত না। সহীহ বুখরী, হাদীস নং ৩৬১২। عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ قَالَ: أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَنْ لاَ تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطِّعْتَ وَحُرِّقْتَ وَلاَ تَتْرُكْ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلاَ تَشْرَبِ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ আবূ দারদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন যে, তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না -যদিও (এ ব্যাপারে) তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইচ্ছাকৃত ফরয নামায ত্যাগ করো না। কারণ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নামায ত্যাগ করে, তার উপর থেকে (আল্লাহর) দায়িত্ব উঠে যায়। আর মদ পান করো না, কারণ মদ হল প্রত্যেক অমঙ্গলের (পাপাচারের) চাবিকাঠি। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৪০৩৪। হাদীসটি সহীহ। উক্ত কুরআনের আয়াত এবং হাদীসের ভিত্তিকে সকল আলেম একমত যে, বাধ্য হয়ে কুফরী কথা বলের কাফের হবে না। এবং যে কোন পরিস্থিতি মেনে নিয়ে কুফুরী কথা না বলা উত্তম। আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ ২২/১৮২ এবং ৩৫/১৮। আরো বিস্তারিত জানতে https://islamqa.info/ar/answers/150748/%D9%87%D9%84-%D9%8A%D8%AC%D9%88%D8%B2-%D8%A7%D9%84%D8%AA%D9%84%D9%81%D8%B8-%D8%A8%D9%83%D9%84%D9%85%D8%A9-%D8%A7%D9%84%D9%83%D9%81%D8%B1-%D8%AD%D9%81%D8%A7%D8%B8%D8%A7-%D8%B9%D9%84%D9%89-%D8%A7%D9%84%D9%86%D9%81%D8%B3-%D9%88%D8%A7%D9%8A%D9%87%D9%85%D8%A7-%D8%A7%D9%88%D9%84%D9%89-%D8%A7%D9%84%D8%B5%D8%A8%D8%B1-%D8%A7%D9%85-%D8%A7%D9%84%D8%AA%D9%84%D9%81%D8%B8-%D8%A8%D9%87%D8%A7